• শিরোনাম

    কে এই বৃদ্ধ…

    এম. সোলায়মান | মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 696 বার

    কে এই বৃদ্ধ…

    মুখে দাড়ি, লম্বাটে চেহারা, গায়ের রঙ কালো, পড়নে লুঙ্গি। রাজধানীর হাতিঝিল পুলিশ প্লাজার সামনে গত ২ দিন ধরে এই বৃদ্ধকে দেখা যাচ্ছে। হাটতে পারছেন না, এমনকি কথাও বলতে পারছেন না। চট বিছিয়ে কখনো শুয়ে কখনো বসে ইশারায় মানুষকে বোঝাতে চাচ্ছেন তার ক্ষুদার যন্ত্রণা। পাশে একাধিক মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যাস্ত। ওই বৃদ্ধ লোকের ইশারা কারো চোখেই পড়ছে না। কারো কারো নজরে আসলেও বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।
    বিষয়টি আধাঘণ্টা যাবৎ লক্ষ্য করেছিলাম একটু দূর থেকে। পরে এগিয়ে গেলাম ওই বৃদ্ধ লোকের কাছে। কিছু টাকা দিতেই মুখে হাত দিয়ে ইশারায় বোঝাতে চাইলো টাকা নয় কিছু খাবেন তিনি। এই মুহুর্তে টাকার থেকে তার খাবার খুব প্রয়োজন। পরে আমার সামর্থ অনুযায়ী দোকান থেকে ওই বৃদ্ধ লোকের জন্য রুটি, কলা, পানি কিনে এনে দিলাম। ক্ষনিকের জন্য আমার দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবছিল বৃদ্ধ লোকটি।
    জানিনা এই বৃদ্ধ লোকটি কার বাবা। কাদের আত্মীয় স্বজন। তবে যেভাবে ক্ষুদার যন্ত্রণায় ছটফট করতে ছিল এ দৃশ্য দেখে মানুষ কীভাবে একজন ক্ষুদার্ত ব্যক্তির আকুতি না শুনে এড়িয়ে যায় ভাবতে অবাক লাগে আমার।
    আমি ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একজন মানুষকেও তার দিকে এগিয়ে আসতে দেখা গেলো না। অথচ তার পাশেই দাড়িয়ে ছবি তোলায় মগ্ন ছিল অনেকে। আড্ডায় হাসি খুশী তামাশা করেই যাচ্ছে অথচ বৃদ্ধ লোকটির ইশারা যেন কারো দৃষ্টিই কারছে না।
    কিছুক্ষণ পরে দেখা গেলো মাথায় পানির ঝার নিয়ে ১০ বছরের একটি মেয়ে এগিয়ে আসলো বৃদ্ধ লোকটির কাছে। আমি দূর থেকে লক্ষ্য করছি, ভেবেছি হয়তো কোন আত্মীয় ওই বৃদ্ধ লোকের। কিন্তু আত্মীয় না মানবিক দৃষ্টি দিয়েই একটি পানির বোতল দিয়ে গেলো বৃদ্ধ মানুষটিকে। মুহুর্তেই ক্যামেরা বন্দি করলাম ঘটনাটি। প্রায়ই সময় মেয়েটিকে পুলিশ প্লাজার আশে পাশেই পানি বিক্রি করতে দেখা যায়।
    ইন করা, টাই পরা ওই ভদ্রলোকগুলো হেরে গেলো ১০ বছরের একটি শিশুর কাছে। ওই শিশুওতো অনেক অসহায়। মাথায় পানির ঝার নিয়ে বিক্রি করে মানুষের দ্বারে দ্বারে, তার পরেও একটি পানির বোতল ফ্রি দিয়ে গেলো বৃদ্ধ মানুষটিকে। ওই শিশু হয়তো ভেবেছে তার শক্তি আছে বিধায় পানি বিক্রি করে সে খেতে পারছে। কিন্তু বৃদ্ধ মানুষটি না পারছে কথা বলতে, না পারছে হাটা চলা করতে। তাকে সাহায্য করা তার একান্তই উচিত। স্যালুট জানাই ওই শিশুকে, ধিক জানাই ওই সকল টাই, ইন, কিটস্ পড়া ব্যক্তিদের যাদের সামর্থ থাকা স্বত্ত্বেও অসহায় মানবের জন্য কাদে না মন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শয়তানের কান্না

    ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | 737 বার

    আদর্শ ডাক্তার হতে চায় মীম

    ০৮ অক্টোবর ২০১৮ | 602 বার

    পাপ ( ছোট গল্প)

    ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | 479 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে nabinagar71.com