• শিরোনাম

    তনু হত্যার তিন বছর: এখনো শনাক্ত হয়নি অপরাধী!

    জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, কুমিল্লা প্রতিনিধি: | বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯ | পড়া হয়েছে 106 বার

    তনু হত্যার তিন বছর: এখনো শনাক্ত হয়নি অপরাধী!

    দেশের বহুল আলোচিত তনু হত্যার তিন বছর আজ। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর খুন হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজছাত্রী ও ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সদস্য, নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। তার হত্যার পর দীর্ঘ তিন বছর সময়েও হত্যাকারীকে শনাক্ত হয়নি, এমনকি তার পিতার দায়ের করা হত্যা মামলাটিরও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। জিজ্ঞাসাবাদেই দীর্ঘ তিন বছর কেটে যাচ্ছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা।

    তনু হত্যাকারীদের এখনও চিহ্নিত করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তনুর মা আনোয়ারা বেগমে জানান, প্রায় এক বছর ধরে সিআইডির সঙ্গে তাদের পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। অফিসে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকেও পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

    তনুর মা বলেন, সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকারী কে তা বেরিয়ে আসবে। কারণ সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় পড়াতে গিয়েই জঙ্গলে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এবিষয়ে কথা বলতে চান। তিনি এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও তনু হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে না পারার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক উল্লেখ করে গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার মুখপাত্র খায়রুল আনাম রায়হান বলেন, মামলাটির তদন্তে সিআইডি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

    হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে বিকালে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করব গণজাগরণমঞ্চ।

    মামলার তদন্ত কাজে কোনো স্থবিরতা নেই উল্লেখ করে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, ডিএনএ পরীক্ষা এবং ম্যাচিংয়ের কাজ চলছে, এটি সময় সাপেক্ষ। মামলার প্রয়োজনে এখনও বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

    এদিকে তনুর মরদেহ দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ জানাতে পারেনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। অবশেষে ২০১৭ সালের মে মাসে ডিএনএ পরীক্ষার জন্যে তনুর জামা-কাপড় থেকে নমুনা সংগ্রহকরে সিআইডি। আসামী শনাক্তের শেষ ভরসাস্থল ডিএনএ রিপোর্টে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতির কথা কথা এবং কয়েকজন সন্দেহভাজনের ডিএনএ ম্যাচিং করার কথাও সিআইডি থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছিল। পরে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ ম্যাচিং করা হয়েছিলো কিনা এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি সিআইডি।

    সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি বিশেষ দল তনুর মায়ের সন্দেহ করা তিনজনকে ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে বলে সে সময় সিআইডি জানায়।

    ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভিতরে একটি বাসায় পড়াতে গিয়ে তনু বাসায় ফিরতে দেরী হওয়ায় খোঁজাখুঁজি করে গভীর রাতে তাদের বাসার কিছু দূরে সেনানিবাসের ভিতর একটি জঙ্গলে তার মরদেহ পায়। এঘটনার পর দিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামী করা হয় অজ্ঞাতনামা। মামলাটি প্রথমে কুমিল্লা কোতোয়ালী থানা পুলিশ, পরে এটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তদন্ত করে। এরপর ২০১৬ সালের পয়লা এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব¡ দেয়া হয় সিআইডি’র উপর। তনু কুমিরøা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেনের মেয়ে।

     

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে nabinagar71.com