• শিরোনাম

    দুই মাসে একজন রোহিঙ্গাও স্বদেশে ফিরতে পারেনি

    অনলাইন ডেস্কঃ- | সোমবার, ০২ এপ্রিল ২০১৮ | পড়া হয়েছে 53 বার

    দুই মাসে একজন রোহিঙ্গাও স্বদেশে ফিরতে পারেনি

    অসহায় এ রোহিঙ্গা শিশুটির ছবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তীব্র আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরা এখনো অনিশ্চিত

     

    মিয়ানমারের সাথে সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের দুই মাস পরও বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া একজন রোহিঙ্গাও রাখাইনে ফিরে যেতে পারেননি। প্রতিবেশী দেশটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নানাবিধ চুক্তি, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার উল্টো কাজ করছে। রাখাইনে পুড়িয়ে দেয়া রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে বৌদ্ধ মডেল গ্রাম গড়ে তোলা হচ্ছে। নির্মিত হচ্ছে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নতুন স্থাপনা। সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদে ও বৌদ্ধদের অর্থায়নে পরিচালিত সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়ন হচ্ছে রোহিঙ্গাশূন্য রাখাইন গড়ে তোলার প্রকল্প। বুলডোজার চালিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত।
    শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে মিয়ানমার। নিরাপত্তার অজুহাতে নতুন করে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও কংক্রিটের দেওয়াল নির্মাণের মধ্য দিয়ে সুরক্ষা জোরদারের চেষ্টা করা হচ্ছে। কোথাও খোঁড়া হচ্ছে বাঙ্কার, স্থাপিত হচ্ছে নতুন সীমান্ত নিরাপত্তা চৌকি। বাংলাদেশের সাথে ১৭০ মাইল সীমান্ত এলাকার বেশির ভাগ অংশজুড়েই এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মিয়ানমার ইতোমধ্যে ১৩০ মাইল সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে। গত বছর ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের সাথে অবশিষ্ট সীমান্তেও কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হচ্ছে।
    চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ প্রথম দফায় যে আট হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকা দিয়েছিল তা নিয়েও তালবাহানা করছে মিয়ানমার। যাচাই-বাছাইয়ের নামে কালক্ষেপণের পর প্রথমে ৩৭৪ জন এবং পরবর্তী সময়ে ১৭৮ জনের তালিকা বাংলাদেশকে দেয়া হয়। কিন্তু এ তালিকা পরিবার ভিত্তিতে না করে এলোমেলোভাবে (র্যানডম) করা হয়েছে। ফলে পরিবারের একটি অংশকে বাংলাদেশে ফেলে রেখে রাখাইনে ফিরতে চাচ্ছে না রোহিঙ্গারা। অথচ প্রত্যাবাসন চুক্তির পর বাংলাদেশ প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারকে দিতে চেয়েছিল।
    এ জন্য সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় তৈরি করা রোহিঙ্গাদের ডেটাবেজের সহযোগিতা নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু মিয়ানমার জানায় তালিকা হতে হবে পরিবারভিত্তিক। এরপর জাতিসঙ্ঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতায় এক হাজার ৬৭৩টি পরিবারের ৮ হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকা প্রস্তুত করে বাংলাদেশ। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-পর্যায়ের বৈঠকে এই তালিকা হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু প্রত্যাবাসনকে জটিল করে তুলতেই যাচাই-বাছাই শেষে মিয়ানমার র্যানডম তালিকা দিয়েছে। নতুন পরিস্থিতিতে আলোচনার জন্য চলতি মাসের শেষে ঢাকায় প্রত্যাবাসনবিষয়ক যৌথ কারিগরি গ্রুপের (জেডব্লিউজি) প্রস্তাবিত বৈঠকের দিকে চেয়ে আছে বাংলাদেশ।
    আগের দেয়া তালিকার সুরাহা না হলেও এ বৈঠকে বাংলাদেশ আরো ১০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা দেয়ার পরিকল্পনা করছে।
    এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং জেডব্লিউজির সদস্য মোহাম্মদ আবুল কালাম নয়া দিগন্তের সাথে আলাপকালে জানান, মিয়ানমারের দেয়া তালিকা অনুযায়ী প্রত্যাবাসনের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেয়া হয়নি।
    রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছাপ্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাখাইনে কি হচ্ছে না হচ্ছে সেটা যাচাই করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপরই বলা যাবে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে কি না। এর আগে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
    তবে বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ক্যারলিন গ্লুক পরিষ্কারভাবেই বলেছেন, মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। এখনো প্রতি সপ্তাহে কয়েক শ’ উদ্বাস্তু নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসছে। তিনি বলেন, যেকোনো প্রত্যাবাসনই স্বেচ্ছা, নিরাপদ ও মর্যাদার সাথে হতে হবে। ফিরে যাওয়া মানুষদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। তাদের পুড়ে যাওয়া বাড়িঘর পুনর্নিমাণে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে। মিয়ানমারের সমাজে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।

    ক্যারলিন গ্লুক বলেন, নাগরিকত্ব ইস্যু সমাধান, সঙ্ঘাত ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কারণ মোকাবেলা জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ মিয়ানমার নিয়েছে বলে আমাদের চোখে পড়ে না। অথচ এগুলো জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত রাখাইন পরামর্শক কমিশনের মূল সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে, যা মিয়ানমার সরকার অনুমোদন করেছে। উদ্বাস্তুরা যেখানে বাস করতেন সেখানকার পরিস্থিতি মাঠপর্যায়ে যাচাই করা যাচ্ছে না। ইউএনএইচসিআর ও অন্যান্য সংস্থাকে সেখানে যেতে দেয়া হচ্ছে না।
    প্রতিবেশী দেশটি শুধু বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া উদ্বাস্তুই নয়, সীমান্তের জিরো লাইনে মিয়ানমার অংশে আটকে থাকা ছয় হাজার রোহিঙ্গাকেও যাচাই-বাছাই ছাড়া ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জোর করে পাঠিয়ে দিতে সীমান্তে সৈন্যসমাবেশসহ নানাবিধ তৎপরতা চালায় মিয়ানমার। এতে সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত লইন উকে তলব করে প্রতিবাদ জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জেডব্লিউজির প্রথম বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের খুঁটিনাটি নিয়ে সই হওয়া ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্টে সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র উ জেও বলেছেন, ‘সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে আশ্রয় নেয়া উদ্বাস্তুদের মধ্যে গত আগস্টে মিয়ানমার নিরাপত্তা চৌকিগুলোর ওপর সমন্বিত হামলাকারী চরমপন্থীরা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। মিয়ানমার যে এক হাজার ৩০০ জনকে চরমপন্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে- উদ্বাস্তুদের মধ্যে তাদের কেউ রয়েছে কি না যাচাই করা হবে।’
    এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আর কখনো রাখাইনে ফেরত পাঠানো যাবে কি না তা নিয়ে সংশয় গভীরতর হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী মিয়ানমার ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবরের পরে আসা ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা এবং গত ২৫ আগস্টের পরে আসা সাত লাখ রোহিঙ্গাকে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যোগ্য বিবেচনা করবে। মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিডোয় গত ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি জেডব্লিউজির বৈঠকে প্রতি সপ্তাহে ১৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ। আর মিয়ানমার তাদের সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার ও রোববার ছাড়া প্রতিদিন ৩০০ করে সপ্তাহে সর্বোচ্চ দেড় হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। দুই পক্ষের সমঝোতা অনুযায়ী প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানো হতে পারে ধারণা করছে বাংলাদেশ। সেই হিসাবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সাত লাখ ৮৭ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে সাত বছরের বেশি সময় লাগবে, যদি মিয়ানমার যথাসময়ে নিয়মিতভাবে তালিকা যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রেই মিয়ানমার মূল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে। প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং এ জন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারিত নেই। মিয়ানমার শুধু একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    নভেম্বরে মিয়ানমারের সাথে সই হওয়া চুক্তিতে প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া শেষ করার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তবে জানুয়ারিতে সই হওয়া ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্টে দুই বছরের মধ্যে প্রত্যাবাসন শেষ করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। চুক্তি সইয়ের দুই মাসের মধ্যে অর্থাৎ গত ২৩ জানুয়ারি থেকে প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। চুক্তিতে প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনএইচসিআরকে সম্পৃক্ত করার কথা বললেও মিয়ানমার প্রয়োজন হলে জাতিসঙ্ঘের সংস্থাটির সহায়তা নেবে বলে জানিয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সম্প্রতি বলেছেন, প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআরকে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিয়ানমার। জাতিসঙ্ঘ বিষয়টি বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছে।

    বিষয়টি জানতে চাইলে ইউএনএইচসিআরের ঊর্ধ্বতন তথ্য কর্মকর্তা ক্যারলিন গ্লুক বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইউএনএইচসিআর। প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য ইউএনএইচসিআর জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সংস্থা। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সাথে প্রত্যাবাসন ইস্যুতে ইউএনএইচসিআরের কোনো চুক্তি এখনো সই হয়নি। তবে এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে।
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এবং শরণার্থী ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ সি আর আবরার বলেছেন, যতই দিন যাচ্ছে ধীরে ধীরে এটা পরিষ্কার হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বার্মার কোনো আন্তরিকতা নেই।
    নানা টালবাহানায় তারা কালক্ষেপণ করছে। আরাকানের (রাখাইন) রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ওপর বার্মা কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজরদারি ছিল। রোহিঙ্গাদের কোন পরিবার কোন এলাকায় থাকত তা ভালোভাবেই তারা জানে। তাই রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের খুব একটি প্রয়োজন তাদের নেই। বাংলাদেশের সাথে চুক্তি সই করা থেকে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার কোনো ইচ্ছার প্রতিফলনই তাদের কর্মকাণ্ডে নেই। তিনি বলেন, বার্মা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েই নৃশংসতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দেশছাড়া করেছে। সহিংসতার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উল্টো রোহিঙ্গাদের ওপর এর দোষ চাপানো হয়েছে। তাই আরাকানকে রোহিঙ্গাশূন্য করার মিয়ানমারের পরিকল্পনা স্পষ্ট। এ কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া প্রলম্বিত বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    একজন মন্ত্রীর পুরনো দুই টিনের ঘর

    ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | 1739 বার

    পুলিশ হতে চাই ৫ যমজ ভাই-বোন

    ১৪ জানুয়ারি ২০১৮ | 416 বার

    উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরন

    ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | 395 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে nabinagar71.com