• শিরোনাম

    দেবীদ্বারের বামনিশাইরে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে বাড়ি আসার পথে স্বামীর মৃত্যু

    মো. শরিফুল আলম চৌধুরী | মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 1188 বার

    দেবীদ্বারের বামনিশাইরে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে বাড়ি আসার পথে স্বামীর মৃত্যু

    মো. শরিফুল আলম চৌধুরী

    স্ত্রীর মৃত্যুসংবাদ শুনে ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে আসার জন্য রওয়ানা দেন স্বামী। স্ত্রীর মরদেহ দেখার আগেই বাড়ির পাশে এসেই স্বামী জ্ঞান হারানোর পর মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে কুমিল্লার দেবীদ্বারের বামনিশাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

    মারা যাওয়া দুজন হলেন দেবীদ্বার উপজেলার ৭ নম্বর এলাহাবাদ ইউনিয়নের বামনিশাইর গ্রামের সাবেক এমএনএ আবদুল আজিজ খানের বাড়ির মোখলেছুর রহমানের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৮) ও তাঁর স্ত্রী একই গ্রামের হাবিবুর রহমানের রিফা আক্তার (২৪)। এক বছর আগে বিয়ে হওয়া তাদের সংসারে কোন সন্তান সন্তুতি আসেনি।

    স্ত্রী ও স্বামীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্য রাতে রিফা আক্তার নিজ বাড়ির পুকুরের শানের ঘাটলায় বসে মোবাইল ফোনে ঢাকায় চাকুরীরত স্বামী আনোয়ারের সঙ্গে কথা বলা অবসস্থায় জটিল মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যান। বাড়ির লোকজন দেখে পুকুর হতে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত্যু ঘোষনা করেন।

    স্ত্রীর এ মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে স্বামী আনোয়ার হোসেন রাতেই ঢাকার রামপুরা থেকে কুমিল্লার দেবীদ্বারের বামনিশাইরের নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত তিনটায় তিনি বাড়ির কাছাকাছি এসে পৌঁছান। এ সময় তিনি জোরে (রিফা) স্ত্রীর নাম ধরে চিৎকার করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে পথচারীরা তার লাশ দেখে বাড়িতে খবর দেন। স্ত্রী ও স্বামীর এ মৃত্যুর সংবাদ শুনে আজ মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসী বামনিশাইর গ্রামের আজিজ খানের বাড়িতে ভিড় জমায়। এ ঘটনা নিয়ে এলাকার সাধারন মানুষের মধ্যে কানাঘুষা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ায় মঙ্গলবার সকালে দেবীদ্বার থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ দুটো ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

    আনোয়ারের বড় বোন শিউলী বেগম বলেন, তাঁর ভাই ঢাকার রামপুরার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ শুনে তাঁর ভাই বাড়িতে আসার পথে বাড়ির পাশের সড়কেই লোকজনের শোর চিৎকার শুনে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পওে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

    এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মোবাইল ফোনে বলেন আমি স্বাক্ষী দেয়ার জন্য ঢাকায় আছি, উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই স্বামী- স্ত্রীর লাশ দুটো ময়নাতদন্ত করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে nabinagar71.com