• শিরোনাম

    নবীনগরের বড়াইল খারঘর গণকবরে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘খারঘর একাত্তর’

    নিউজ ডেস্কঃ | মঙ্গলবার, ২০ মার্চ ২০১৮ | পড়া হয়েছে 199 বার

    নবীনগরের বড়াইল খারঘর গণকবরে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘খারঘর একাত্তর’

    নবীনগরের বড়াইল খারঘর গণকবরে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘খারঘর একাত্তর’

     

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরের ‘খারঘর গণকবরে’ নির্মিত হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ ‘খারঘর একাত্তর’। আগামী ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে ফুল দিয়ে দৃষ্টিনন্দন এই স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

    তিতাস নদীর মোহনায় পাগলা নদীর পাড়ে ঐতিহাসিক স্থানে রূপ নিয়েছে গণকবরটি। দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানটি দেখতে ও শ্রদ্ধা জানাতে।

    জেলা পুলিশের পক্ষে গণকবর স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসাইন। তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন গণকবরটি অরক্ষিত ছিল। পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশে আমরা এখানে স্মৃতিস্তম্ভ করেছি। স্বাধীনতা যুদ্ধে খারঘর গণহত্যার শহীদদের স্মরণে এর নাম দিয়েছি ‘খারঘর একাত্তর’।

    স্মৃতিস্তম্ভের ডিজাইনার প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান মনির বলেন, ১৯৭১ সাল ও মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের স্বরণে স্তম্ভটি ‘৭১’ আকৃতির নির্মাণ করা হয়েছে। এর নিচে স্থাপন করা হয়েছে এখানে গণকবর দেয়া ৪৩ জন শহীদের নামফলক।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নে পাগলা নদীর তীরবর্তী খারঘর গ্রাম। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর, আশুগঞ্জ, ভৈরব ও নবীনগর উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় মুক্তিযুদ্ধে এ অঞ্চলটিতে হানাদারদের আক্রমণের ভয় খুব একটা ছিল না। বড়াইলে পশ্চিমে পাগলনী নদীর অপর তীরে বীরগাঁও গ্রামটি জামায়াতের নেতা গোলাম আযমের গ্রামের বাড়ি। মুক্তিযোদ্ধারা এখানে অবস্থান নিয়ে কয়েকটি অপারেশন চালায় নবীনগর, আশুগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। বিষয়টি এক পর্যায়ে জেনে যায় পাকিস্তানি হানাদাররা।

    ১৯৭১ সালে ১০ অক্টোবর বর্বর পাক বাহিনী নদী পথে জাহাজে এসে এলোপাথাড়ি আক্রমণ করে। এ সময় হত্যা করে ৪৩ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে। তাদের নির্যাতনের শিকার হয়ে আহত হয় ১২৭ জন। নিহতদের একই সাথে গণকবর দেওয়া হয় এই স্থানটিতে।

    এরপর থেকে প্রতি বছর ১০ অক্টোবর খারঘর গণহত্যা দিবস পালিত হয়ে আসছে। কোনো প্রকার স্মৃতিস্তম্ভ না থাকলেও প্রতি বছর সরকারিভাবে প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, যোদ্ধাহত শহীদ পরিবারের সদস্যরাসহ নানা পেশার মানুষ খারঘর গণকবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছিল।

    স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কাজী সিরাজ মিয়া বলেন, ওই দিনের (খারঘর গণহত্যার দিন) কথা মনে হলে আজও চমকিয়ে উঠি। ইতিহাসের স্মৃতির পাতা থেকে এই দিনটি কোনোভাবেই মুছে যেতে পারে না। স্মৃতিস্তম্ভটি হওয়ায় আমরা আজ আনন্দিত।

    খারঘর গণকবরে শায়িত শহীদ আব্দুছ সাদিরের ছেলে আবুল খায়ের বলেন, হানাদারদের গুলিতে শহীদ হলে অন্যদের সাথে বাবাকেও এই গণকবরে দাফন করা হয়। গণকবরটি আগে অরক্ষিত ছিল। আমার বাবার মতো সব শহীদদের সম্মান জানাতে এখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করায় আমরা জেলা পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ।

    পরিবার নিয়ে গণকবর দেখতে আসা জেলা শহরের নিউ মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলাম উজ্জ্বল ও প্রবাসী সাংবাদিক সাজিদুল ইসলাম জানান, এ স্থানটি ইতিহাসের একটি অংশ। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানাতে সন্তানদের এই গণকবর দেখাতে নিয়ে এসেছি। দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিস্তম্ভটি হওয়ায় স্থানটি পর্যটকদের আরো আকর্ষণ করবে।

     

    সুত্র- পরিবর্তন ডটকম

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    নবীনগরে ভুয়া ডাক্তার আটক

    ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | 4638 বার

    Blue Whale এ আসক্ত নবীনগরের কিশোর ইমন

    ১৫ অক্টোবর ২০১৭ | 2384 বার

    নবীনগরে অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার ১

    ২৯ জানুয়ারি ২০১৮ | 2307 বার

    নবীনগরে সংঘর্ষে আহত-১০

    ০৯ অক্টোবর ২০১৭ | 2143 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে nabinagar71.com