• শিরোনাম

    ফের মুখোমুখি চলচ্চিত্রকাররা

    অনলাইন ডেস্কঃ- | সোমবার, ০২ এপ্রিল ২০১৮ | পড়া হয়েছে 139 বার

    ফের মুখোমুখি চলচ্চিত্রকাররা

    ফের মুখোমুখি চলচ্চিত্রকাররা

     

    আবারও অনৈক্য দেখা দিয়েছে চলচ্চিত্রশিল্পে। এবার সাফটা চুক্তির আওতায় ‘চালবাজ’ শিরোনামে একটি চলচ্চিত্র আমদানিকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র পরিচালক ও শিল্পী সমিতি এবং কয়েকটি চলচ্চিত্র সংগঠনকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে চলচ্চিত্র স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি। এই কমিটি থেকে ছবিটি আমদানি বন্ধ ও তথ্যমন্ত্রীর অধীনে চলচ্চিত্র দিবস পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। অন্যদিকে এসব ঘটনায় বিক্ষুব্ধ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি। তারা কলকাতার চলচ্চিত্রের নিয়মতান্ত্রিক আমদানিতে বাধা ও তথ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবির নিন্দা জানিয়েছেন। উভয় পক্ষের মতামত তুলে ধরেছেন— আলাউদ্দীন মাজিদ

    ইফতেখার নওশাদ
    [সভাপতি, চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি]
    আমি বুঝতে পারছি না একাধিকবার সমঝোতা হওয়া সত্ত্বেও বারে বারে কেন এই মতানৈক্য তৈরি হচ্ছে। গত বছর যৌথ প্রযোজনার সমস্যা সমাধানের পর কথা হয়েছিল, যে কোনো সমস্যা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করা হবে। কিন্তু সম্প্রতি চালবাজ ছবিটির আমদানি নিয়ে সৃষ্ট ঘটনার দায়ভার প্রদর্শক সমিতির ওপর কেন চাপানো হচ্ছে? আমরা কোনো অনৈক্য চাই না। দেশীয় চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নের স্বার্থে সবাই একতাবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে চাই। তাছাড়া চলচ্চিত্র দিবস একটি জাতীয় দিবস। এই দিবসের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত। বর্তমান সরকার এফডিসি, ফিল্ম আর্কাইভ, বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি, ফিল্ম ইনস্টিটিউট, সিনেমাহলকে ডিজিটালকরণসহ নানা উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। আর তথ্যমন্ত্রী এতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে এ নিয়ে ভুলবুঝাবুঝি করে তাকে বয়কট করা বা পদত্যাগ না চেয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতির সমাধান করা দরকার।

    সুদীপ্ত কুমার দাশ
    [প্রধান উপদেষ্টা, প্রদর্শক সমিতি]
    যৌথ প্রযোজনা নিয়ে গত বছরের দুঃখজনক ঘটনার পর আমিই উদ্যোগ নিয়ে অভিনেতা ফারুক সাহেবের সঙ্গে আলোচনা করে এর সমাধানের ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু এ বিষয়ে ফারুক সাহেব ছাড়া অন্য কারও আগ্রহ দেখতে পাইনি। চলচ্চিত্র পরিবার বলেছিল কলকাতার বাংলা ছবি আমদানি এমন কি ভারতের অন্য ভাষার ছবি ডাব করে চালাতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। এ বিষয়ে একটি ঐকমত্যও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে, কোনো সমস্যা দেখা দিলে সবাই বসে আলোচনার মাধ্যমে তার সুরাহা করা হবে। কিন্তু সেই কথা না রেখে আবারও সংঘাতের পথে চলচ্চিত্র পরিবার চলে গেল। তারা এখন আলোচনা ছাড়াই দাবি করছে বিশেষ দিবসে কলকাতার বা যৌথ প্রযোজনার ছবি মুক্তি দিতে দেবে না। এ বিষয়টিও আলোচনা করে সিদ্ধান্তে আসা যেত। এ ছাড়া সম্প্রতি একটি ছবি মুক্তিকে কেন্দ্র করে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের মতো রাষ্ট্রীয় একটি অনুষ্ঠানকে বয়কটের হুমকি দেওয়া দুঃখজনক।

    মিশা সওদাগর
    [সভাপতি, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি]
    আমি সবার প্রতি একটিই অনুরোধ করব, চলচ্চিত্র-সংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ে সবার আগে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সবাই এগিয়ে যান। যেহেতু আমি চলচ্চিত্রের লোক তাই বলব চলচ্চিত্র-সংশ্লিস্ট সব বিষয় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নেই। চলচ্চিত্রের কোনো বিষয়ে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হোক তা আমি চাই না।

    আবদুল আজিজ
    [প্রযোজক, চেয়ারম্যান, জাজ মাল্টিমিডিয়া]
    কাজের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা করা যে কোনো সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে মতানৈক্য দেখা দিতেই পারে। তা সহজ ও সুন্দরভাবে সমাধানের একমাত্র পথ সুষ্ঠু পরিবেশে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নই। দেশের প্রচলিত আইনকানুন মেনে সবাই যদি কাজের মাধ্যমে এগিয়ে যাই তাহলে নিজের এবং দেশের উন্নয়ন হবে। আমাদের তাই করা উচিত। আমরা এমন অবস্থা চাই না যে, আমার হাতে কাজ নেই বলে ঈর্ষান্বিত হয়ে অন্যকেও কাজ করতে দেব না ,তাহলে ফলাফলটা হবে ব্যক্তি ও দেশের জন্য নেতিবাচক। আমরা কখনোই ‘অলস মস্তিষ্ক শয়তানের বাসা’ হতে দেব না। জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ দেশ ও চলচ্চিত্রশিল্পের কোনো ক্ষতি হয়, এমন কাজ থেকে যেন সবাই বাঁচতে পারি সৃষ্টিকর্তার কাছে সেই হেদায়েত ও শুভবুদ্ধি প্রার্থনা করছি।

    জায়েদ খান
    [সাধারণ সম্পাদক, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি]
    গত চার বছর চলচ্চিত্র শিল্পের কোনো উন্নয়ন হয়নি। তথ্যমন্ত্রীর সহায়তায় সিনেমাহল মালিক এবং একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা নানা অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রজেক্টর বসিয়ে সিনেমাহল ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জিম্মি করে রেখেছে। সিনেমাহল মালিকদের মধ্যে অনেকে আছে যারা সিনেমা নির্মাণ করে না, নিজস্ব সিনেমাহল নেই এবং নিজেরা মেশিন বসাতে পারে না। কেন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের জিম্মি হয়ে থাকতে হবে। এসব কারণে প্রযোজকরা চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। আসলে এ দেশকে কলকাতার ছবির বাজার বানানোই তাদের হীন লক্ষ্য। আর সবই হচ্ছে তথ্যমন্ত্রীর আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে। তাই আমরা জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি সৈয়দ হাসান ইমাম সাহেবের নেতৃত্বে দিবসটি আলাদাভাবে পালন করব। আমাদের অবস্থান সরকারের বিরুদ্ধে নয়, আমরা তথ্যমন্ত্রীর অপসারণ চাই। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমাদের অবস্থান কলকাতার কোনো ছবি আমদানির বিরুদ্ধে নয়। যখন বিশেষ দিবসে আমাদের নিজস্ব ছবি থাকে তখন কেন তথ্যমন্ত্রী জোর করে কলকাতার ছবি এখানে মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে আমাদের ছবি এবং চলচ্চিত্রশিল্পেরই ক্ষতি হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    সফল এক বালক-রুপম

    ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | 868 বার

    এক বাবা নেই বলে আপনি সর্বহারা।

    ২৩ অক্টোবর ২০১৭ | 751 বার

    সানিকে চাই শাকিবের

    ০৭ অক্টোবর ২০১৭ | 568 বার

    শয়তানের কান্না

    ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | 510 বার

    মেহজাবিনের পরিচয়

    ০২ এপ্রিল ২০১৮ | 474 বার

    জামাই হিসেবে সাংবাদিকরা কেমন?

    ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | 443 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে nabinagar71.com