• শিরোনাম

    অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেনা হুুুুমায়ুন কবির

    মোঃ মনির হোসেন : | শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১ | পড়া হয়েছে 187 বার

    অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেনা হুুুুমায়ুন কবির

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির জমানো টাকাপয়সা, এমনকি ধারদেনা করে এতোদিন চিকিৎসা চললেও শেষদিকে এসে অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

    অর্থভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেনা। গত দেড় বছর ধরে কিডনিজনিত সমস্যায় শয্যাশায়ী তিনি। নিজের জমানো টাকাপয়সা খরচ, এমনকি ধারদেনা করে এতোদিন চিকিৎসা চললেও শেষদিকে এসে অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। মাত্র ৭/৮ লাখ টাকার জন্য নিজের চিকিৎসা ও স্ত্রী, ৪ কন্যা সহ পরিবারের ৫ জনের ভবিষ্যত নিয়েও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তিনি।

    জীবনের বেশিরভাগ সময় রাজনীতি করেই কাটিয়েছেন ,এছাড়াও রাজনীতিতে সক্রিয় কর্মী হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পদেও একাধিক বার দল ও দলের অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পদে আসিন ছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনীতির কারনে রাস্তা-ঘাট, হাট বাজার সবখানেই ছিলো প্রাণচঞ্চল পদচারণে। দলের সু-সময়ে ফায়দা লুটেননি, বরং নিজের পকেটের টাকা খরচ করে বছরের পর বছর রাজনীতি করে গেছেন। যেকারণে অর্থকষ্ট হুমায়ুন কবিরকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে যেন!

    নবীনগর পৌর এলাকার মাঝিকাড়া গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বিছানায় শুয়ে-বসে দিন কাটাচ্ছে এখন।
    টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ থাকায় প্রতিনিয়ত অন্তিম প্রয়াণের প্রহর গুনছেন তিনি।
    আসলেই কি! ‘কেউ কারো নই’….
    অসহায়ের মতো হুমায়ুন কবিরের উপলব্ধি।

    ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’ এ গানের কথাগুলোর ভাবার্থ তাকে ভাবায় প্রায়ই। অর্থের অভাব, চিকিৎসা বঞ্চিত থেকে একটানা কয়েকমাস বাড়িতে শয্যাশায়ী হয়ে বাস্তবতার কাছে আবেগের জীবনের মিল খুজতে গিয়ে হতাশ হন।
    দেড় বছর আগের কথা, জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি, বেঁচে থাকার আশা পরিবারের লোকজন ছেড়েই দিয়েছিলো। আল্লাহ তায়ালার অপার মহিমায় ওই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েক ধাপে চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা পয়সা খরচ করতে হয়েছে। ডাক্তার জানিয়েছে, দেশের বাহিরে নিয়ে চিকিৎসা করাতে পারলে হয়তোবা ধীরেধীরে তাকে গ্রাস করা থেকে রোগের নিয়ন্ত্রন সম্ভব। অসুস্থ হওয়ার খবরে খোজ নিয়ে জানতে পারি, এখন ধারদেনা করেই উনার স্ত্রী স্বামীর চিকিৎসার টুকটাক খরচ বহন করছেন।
    এভাবে কি জীবন চলে…..! বিছানায় শুয়ে অনিশ্চিত জীবনের শেষ কোথায় ভাবতে গিয়ে নিজেকে আরো বেশি অসহায় ভেবে হতাশায় ডুবে থাকেন দীর্ঘক্ষন।
    আমি পাশে বসা। উনার মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করলাম কিছু একটা, মনে হলো সবার জীবনেই এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। প্রেক্ষাপট হয়তো ভিন্ন থাকে। ঠিক ওই মহুর্তে সবাইকে একাকিত্ববোধ , অসহায়ত্বভাব, অতৃপ্তি,অপুর্নতার হিসেব নিয়ে স্রষ্টার সামনে দাড়াতে কুন্ঠা বোধ করে না, স্রষ্টার মুখোমুখি একজন মানুষের চাওয়ার মধ্যে তখুনি শুদ্ধতা থাকে।
    আমি/আপনি সবসময়ই স্বার্থের জন্য দৌড়াদৌড়ি করছি। যখন ব্রেক কষতে হয়, তখনি টের পাই কিসের মোহে এতোদিন দৌড়ালাম। হয়তোবা তিনিও এইসব ভাবছেন। একজন মানুষের এমন পরিস্থিতিতে তাকে আরো বেশি হতাশায় ডুবিয়ে দেই যখন ভাবেন,স্ত্রী ও চার কন্যা সন্তানের ভরসা খুজে পাননা!
    সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম আয়ের মানুষ তিনি। তার আয়ে পরিবারের ৫ জনের মুখে আহার যোগান হয়। অথচ ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস,তিনি নিজেই এখন নিজের বেচে থাকার যুদ্ধে মাঝ নদীতে হাবুডুবু খাচ্ছেন। এক পাড়ে পরিবারের ৫ জনের অসহায় মুখ অন্যদিকে ওপারে অন্তিমকাল। তার যে সাড়ে ৩ বছরের কন্যাটার জন্য হলেও বাঁচার ইচ্ছে জাগে। তিনি সুস্থ থাকলে ৭/৮ লাখ টাকার জন্য পরিবারের কাউকে হারাতে চাইতেন না। অথচ, হিসেবের উল্টো পিঠে নিজেকে দাড় করিয়ে স্তব্ধতার পর্দা দুই চোখ ঢেকে দেয় তার,পরক্ষণে চোখের কোনায় জলের ভেজা ভাব স্পষ্ট হয়ে উঠে।

    #মাঝিকাড়া গ্রামে অনেক অবস্থান সম্পন্ন ব্যক্তি রয়েছে যাদের মানবিক হাত প্রসারিত করা মানে একজন অসহায় পরিবারের প্রতি সহানুভূতি দেখানো। আমি/আপনি সহ সকলের উচিত সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়া।

    হুমায়ুন কবির
    01942200979 (বিকাশ)

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    নবীনগরে প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যা

    ১৫ অক্টোবর ২০২০ | 676 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে