• শিরোনাম

    আপোষহীন চিত্রশিল্পী জাহেদ রবিন

    নিউজ ডেস্ক | শনিবার, ০৫ জুন ২০২১ | পড়া হয়েছে 165 বার

    আপোষহীন চিত্রশিল্পী জাহেদ রবিন

    ফাইল ছবি

    এ প্রজন্মের একজন রত্নখনি শিল্পী হলেন বাংলাদেশি চিত্রশিল্পী জাহেদ রবিন, যিনি আন্তজার্তিক পর্যায়ে স্বীকৃত একজন চিত্রশিল্পী, যার ছবি সম্মান অর্জন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে, স্থায়ীভাবে সংগ্রহীত আছে আবুধাবি ন্যাশনাল মিউজিয়ামে, প্রদর্শনী হয়েছে ফ্রান্সে। যিনি চিত্রকর্মে বিভিন্ন সময়ে ফুটিয়ে তুলেছেন সাধারণ মানুষদের জীবনযাপন, নারীর ত্যাগ, নারীর প্রতি পুরুষতান্ত্রিক শোষণ, মাতৃত্ব, ভালোবাসা, মানবতা, দারিদ্রতা, ক্ষুধার্ত মানুষের অসহায়ত্ব এবং আকুতি, গ্রামীণ মানুষদের জীবনযাপন এবং জীবনযাত্রা, এঁকেছেন প্রকৃতি সহ আরো অনেক কিছু। এছাড়াও শিল্পী বিভিন্ন সময়ে তার রং তুলির স্পর্শে একেঁছেন বিভিন্ন প্রতিবাদের ঝড়।

    শিল্পী এঁকেছেন ১৫ আগস্টের শোক, জাতির জনক বন্ধু বঙ্গবন্ধু, ৭১ এর স্বাধীনতার উল্লাস। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন চিত্রকর্ম তৈরির পরে শিল্পী মনোনিবেশ করেছেন নারীর মাতৃত্বে। মানুষ যখন নারীকে শুধুমাত্র লালসার বস্তু হিসেবে দেখছিলো, ২০১৭ সালে শিল্পী তখন প্রবাস জীবন ছেড়ে দেশে ফিরে আঁকতে আরম্ভ করলেন নারীর অসীম ত্যাগের মাতৃত্বের গল্প।

    যিনি চিত্রকর্ম এঁকে মানুষদের নারীর জরায়ুর প্রতি কামনার আবডালে মাতৃত্বের সেই অবদান, পবিত্রতা, ত্যাগ, কৃতিত্ব, প্রয়াসের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। নারীর জরায়ু মানুষের ভাবনায় যখন শুধু কামনার বস্তু, তখন শিল্পী সেই জরায়ুতে এঁকেছেন গর্ভে সন্তানের দেহের বৃদ্ধি হওয়া, মায়ের দেহের অংশ থেকে সন্তানের আহারের ব্যবস্থা হওয়া, তিলেতিলে বেড়ে ওঠা, এবং অবশেষে জরায়ু হবে হবে পৃথিবীর পথ।

    অথচ, পৃথিবীতে আসার পরেই মানুষ নারীর জরায়ুর অবদানের কথা ভুলে গিয়ে শুধুমাত্র কামনার চোখেই নারীর জরায়ুর কথা ভাবতে আরম্ভ করেন এবং ভাবতে শেখেন। অথচ এর কৃতিত্ব, ঐতিহ্য, প্রয়াস, অবদান, সম্মান ইত্যাদির কথা ভুলে যান।

    পৃথিবীর অনেক জনপ্রিয় শিল্পীও যখন নারীর জরায়ু কেবলমাত্র আবেদনময়ী করেই এঁকেছেন, জরায়ুতে শুধুই প্রেম খুঁজেছেন, কামনা খুঁজে পেয়েছেন, শিল্পী জাহেদ রবিন তখন জরায়ুতে এঁকেছেন মাতৃত্ব, জরায়ুতে মাতৃত্ব নিয়ে সম্পূর্ণ একটি পৃথক চিত্রকর্মের সিরিজ তৈরি করেছেন তিনি। বিভিন্ন মানুষ নারীর নগ্ন শরীরে যখন খুঁজে বেড়িয়েছেন কামনা, যৌনতা, শিল্পী তখন তার বিখ্যাত জরায়ু সিরিজে নগ্ন দেহে খুঁজেছেন মাতৃত্ব, মায়ের মমতা, ত্যাগ, শিল্পীর জরায়ু সিরিজে কখনো বৃক্ষ ফুটে উঠেছে পৃথিবীর মা হয়ে, কখনো ফুটে উঠেছে সন্তান জন্মের আগে মায়ের সাথে সন্তানের যোগাযোগ, চিত্রকর্মে নারীর জরায়ু ফুটে উঠেছে পৃথিবীর পথ হিসেবে।

    শিল্পীর জরায়ুতে মাতৃত্ব চিত্রকর্মে খুব মনোযোগী হয়ে তাকালে মানুষেরা বুঝতে পারবেন শিল্পী একটি চিত্রকর্মের ভেতরে মা এবং সন্তানের মমতার গঠনের বন্ধন কত নিখুঁত ভাবে তুলে ধরেছেন, তুলে ধরেছেন মায়ের হাড় ক্ষয় করা ত্যাগের গল্প। শব্দের এবং বাক্যের প্রয়োগ না করে শুধুমাত্র একটি চিত্রকর্ম উপলব্ধির কতটা গভীরে যেতে পারে, সেটির অন্যতম উদাহরণ হলো শিল্পীর জরায়ু সিরিজের চিত্রকর্ম গুলো।শিল্পী জরায়ুর ভেতর মাতৃত্ব এঁকে প্রশ্ন ছুঁড়েছিলেন,মানুষের জন্ম এই পথে, কিন্তু ধর্ষকের জন্ম কোন পথে?

     

    শিল্পী বিশ্বাস করতেন যিনি মাতৃত্বের মর্যাদা, কৃতিত্বের জন্য জরায়ুর এই ত্যাগ উপলব্ধি করতে পারবেন, তিনি কোনদিন ধর্ষক হতে পারেন না। নারীর নগ্ন দেহে শুধুমাত্র যৌনতা পালন না করে, কামনা না খুঁজে যিনি মাতৃত্ব খুঁজতে শিখবেন, তিনি কোনদিন ধর্ষক হবেন না। শিল্পী এভাবেই তার জরায়ু সিরিজের চিত্রকর্ম দিয়ে মানুষদের নতুন করে ইতিবাচক ভাবে ভাবতে শিখিয়েছেন, শেখাচ্ছেন।

     

    শিল্পী জাহেদ রবিনের জরায়ু সিরিজের চিত্রকর্মে ফুটে উঠেছে কিভাবে একটি ইতিবাচক ব্যাপারের ভেতর আমরা হাজার বছর ধরে শুধু নেতিবাচক মনোভাব চর্চা করেছি। ফলে কখনো হয়েছি হিংস্র, কখনো হয়েছি ধর্ষক আর কখনো প্রতারক। নারীর জরায়ুর ভেতর আমরা শুধুমাত্র নেতিবাচক ব্যাপার খুঁজি, স্বার্থ খুঁজি, নগ্নতা খুঁজি, যৌনতা লালন করি, হিংস্রতা ধারন করি। অথচ, জরায়ুতে শুধুমাত্র যৌনতা নেই, আরো রয়েছে মাতৃত্ব, জরায়ু মাতৃত্বের সম্মান ধারণ এবং বহন করে। এই মাতৃত্ব আমাদের ছোটবেলা থেকে আরম্ভ করে জীবনের শেষমুহুর্ত পর্যন্ত কৃতিত্ব রাখে।

    একজন মানুষ মাতৃত্বের সম্মানটি অনুধাবনের সক্ষমতা অর্জন করলে, তিনি এরপরে কখনো নারীর জরায়ু দেখে হিংস্র ধর্ষক হবেন না। জরায়ুতে শুধুমাত্র যৌনতা নেই বরং আছে আমাদের জম্ম, পৃথিবীর পথ, মানবসভ্যতার প্রয়াস, আমাদের জীবন, বেড়ে ওঠা সহ আরো অনেক কিছু।

     

    শিল্পীর জরায়ু সিরিজের চিত্রকর্ম গুলো মানুষদের ভাবনার ঝড় তুলতে সফল হয়েছে। সর্বোচ্চ দামে নিলামে উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের চিত্রকর্মের প্রদর্শনীতে, বিক্রি হয়েছে বাংলাদেশি মূল্যে প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকায়। জায়গা পেয়েছে ফ্রান্সের চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতে। শিল্পীর চিত্রকর্মের এ অর্জনে দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষেরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, গর্বিত হয়েছেন, দেশের বিভিন্ন মানুষ এই সিরিজের ছবি গুলোর ব্যাপারে লিখেছেন, তাদের ভাবনা প্রকাশ করেছেন, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা তুলেছেন। অনেকেই জানিয়েছেন তারা এই ছবি গুলোর মাধ্যমে নতুন করে ভাবতে শিখেছেন। বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষজন তাদের মতন করে শিল্পীকে ভালোবাসা জানিয়েছেন।

     

    শিল্পী জাহেদ রবিনের চিত্রকর্ম এর আগেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বায়ান্ন জন চিত্রশিল্পীর চিত্রকর্মের ভেতর অনেক দেশের শিল্পীদের পেছনে ফেলে নবম তম হয়েছে। স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে দুবাইয়ের ন্যাশনাল মিউজিয়ামে।

     

    শিল্পীর জরায়ুর চিত্রকর্মের জন্য যখন সংযুক্ত আরব আমিরাত শিল্পীকে সর্বোচ্চ সম্মানিত করছেন, দেশের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ এই অর্জনে যখন শিল্পীকে প্রশংসিত করছেন, বিভিন্ন পর্যায়ে সম্মানিত করছেন, তখনি সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার করে একদল উঠতি বয়সী উগ্র তরুণ, মস্তিস্কে হিংস্রতা এবং জঙ্গি আচরণ লালন করা গোষ্ঠীর প্ররোচনায় পরে শিল্পকে অবমাননা এবং অবমূল্যায়ন করে দীর্ঘদিন ধরে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে নেতিবাচকতা ছড়াচ্ছেন, শিল্পীকে নিয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছেন।

     

    সামাজিক মাধ্যমে এসব শিল্প বিরোধী উগ্র আচরণের তরুণেরা বিভিন্ন সময়ে শিল্পীকে ব্যক্তি পর্যায়ে, পারিবারিক পর্যায়ে আক্রমন করে চলেছেন, হেয় করে চলেছেন, এমন কি প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দিচ্ছেন, নেতিবাচকতা ছড়াচ্ছেন, কম্পিউটার ব্যবহার করে শিল্পীর ছবির সাথে অপরিচিত মানুষদের ছবি জুড়ে ভূয়া প্রতিবেদন তৈরি করছেন এবং কুরুচিপূর্ণ কথা লিখে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

    এছাড়াও বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, ব্যাঙ্গার্থ মূলক বার্তা, আক্রমণাত্মক বার্তা, উস্কানিমূলক বার্তা ইত্যাদি ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে দিন দিন এসবের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। এই লাগামহীন উঠতি বয়সী তরুণেরা সংখ্যায় একদমই কম নয়। এদের কার্যকলাপের জন্য সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এরা গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন তরুণ গ্যাং এবং ফেসবুক গ্রুপ। সেখান থেকেই তারা এসব বেআইনি কার্যকলাপ পরিচালনা করে চলেছেন।

    ফেসবুকের অপব্যবহার করে বেআইনি ভাবে নিয়মিত স্প্যামিং করছে, ফেক রিপোর্ট করছে, এভাবে বেআইনি ভাবে শিল্পীর পুরনো ফেসবুক আইডিও ডিজেবল করেছেন এসব তরুণ গ্যাং এর সদস্য ও পরিচালকেরা,  যেখানে শিল্পীর প্রবাস জীবনের চিত্রকর্মের বহু চিহ্ন এবং স্মৃতি ছিলো, এবং এসব কার্যকলাপের ব্যাপারে সেসব তরুণ গ্যাং এর পরিচালক ও সদস্যরা প্রকাশ্যেই উল্লাস করে বেড়াচ্ছেন, যেখানে এ ধরনের আক্রমণাত্মক আচরণ এবং কার্যকলাপ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং বড় ধরনের সাইবার ক্রাইম।

    এ ব্যাপারে শিল্পী জাহেদ রবিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, অনেকদিন ধরে তিনি চুপচাপ ধৈর্য ধরেছেন, নানান ভাবে প্রাননাশের হুমকির পরেও চুপ থেকেছেন, বিভিন্ন শুভাকাঙ্ক্ষীরা বিভিন্ন সময় এসব উগ্র তরুণদের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইমের মামলা করে আইনি পদক্ষেপের ব্যাপারে বললেও তিনি অপেক্ষা করেছিলেন হয়তো এই তরুনদের নেতিবাচক এবং আক্রমণাত্মক আচরণ তিনি বদলাতে সফল হবেন।

    কিন্তু এবার তিনি আর চুপ থাকবেন না, এর বিরুদ্ধে শিল্পী কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই আক্রমণ গুলোর পক্ষে এবং এ সমস্ত তরুণ গ্যাং এবং গ্রুপ গুলোর কার্যক্রমের ব্যাপারে তিনি বিভিন্ন প্রমান এবং নথিপত্র জমা করছেন, যেগুলো শিল্পী প্রশাসনের কাছে হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শিল্পী জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে শিল্পীর বিভিন্ন শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সামাজিক মাধ্যমের অনুসারীরা শিল্পীর সাথে রয়েছেন, এবং নিজেদের জায়গা থেকে প্রতিবাদ গড়ে তুলছেন। বাংলাদেশের সাইবার বিভাগ এই অন্যায় গুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবেন, এমন বিশ্বাস রয়েছে শিল্পীর।

    এর আগেও এসব তরুণ গ্যাং গুলো বিভিন্ন দেশবরেণ্য শিল্পী, খেলোয়াড়, অভিনেতা, অভিনেত্রীদের নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে এরকম বেআইনি কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি যাদের অনেককেই শনাক্ত করে বাংলাদেশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে