• শিরোনাম

    আবু জাফর তোমায় মনে পড়ে

    মনির হোসেন | মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২২ | পড়া হয়েছে 412 বার

    আবু জাফর তোমায় মনে পড়ে

    ফাইল ছবি

    সেই ছেলেবেলা। গ্রামের বাড়িতে আমার দাদুর সাথে থাকি। ৯২নং ফতেহপুর (দক্ষিণ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছি। ক্লাস টুতে যখন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই, তখন আমার রোল নম্বর ছিল ১। সম্ভবত সে তখন পড়ত তৃতীয় শ্রেণিতে। এরপর ফতেহপুর কে জি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে শ্রীকাইল কলেজ থেকে বিকম পাস করে জাফর। কিছু দিন পর ঢাকায় এলএলবিতে ভর্তি হয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনাও করেছে।

    এরপর মতিঝিলে রহিমআফরোজ কোম্পানিতে চাকরি নেয়। থাকত মালিবাগ ওর বড় বোন এডভোকেট সাবেরা বেগম বুলি আপার বাসায়। তখন ফতেহপুর কে জি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে ওর বাবা জনাব আবদুর রশিদ মাস্টার চাচা, যিনি আমারও শ্রদ্ধাভাজন স্যার উনার এলাকায় তখন “আদর্শ শিক্ষক” হিসেবে খুব নামডাক।  পরবর্তী সময় যিনি এলাকায় পরপর দুইবার অত্যন্ত সৎ, আদর্শবান, সুযোগ্য সফল চেয়ারম্যান ছিলেন।

    আমার বাবা মোঃ তফাজ্জল হোসেন (আশু মিয়া) সাহেব তখন ঢাকা সদরঘাট পোস্ট অফিসে চাকরি করেন। আমরা মতিঝিল পিএন্ডটি কলোনির সরকারি বাসায় থাকি। আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করার পর মতিঝিলপাড়ার দৈনিক বাংলার বাণীতে সাংবাদিকতা পেশায় কর্মজীবন শুরু করি।উল্লেখ্য, পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা-মালিক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য ভাগিনা জনাব শেখ ফজলুল হক মনি। উনার ছেলে পরবর্তী সময় (বর্তমান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সম্মানিত মেয়র মহোদয় ) জনাব ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস স্যার তখন পত্রিকাটির দায়িত্বে ছিলেন। প্রতিদিন তিনি একটি সাদা গাড়িতে করে ভবনের সামনে নামতেন। দ্রুত উপরে উঠে বিভিন্ন বিভাগে যেতেন। কাজকর্মের খোঁজখবর নিতেন এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তিনি সব পরিচালনা করতেন।

    এরপর ব্যস্ত জীবনে ওর সঙ্গে যোগাযোগ অনেকটাই গ্যাপ পড়ে যায়। একসময় লাউর ফতেহপুর আরএনটি বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মহান পেশায় যোগদান করে। এরপর ফতেহপুর কে জি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করে শিক্ষকতায়। হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে ওর খুব পাণ্ডিত্য ছিল। একসময় এলাকায় চেয়ারম্যান নির্বাচনও করে। জড়িত ছিল বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও।

    মাঝেমধ্যে যখনই গ্রামে যাই ওর সাথে বাড়িতে কিংবা বাজারে দেখা হলেই কথা-বার্তা ও চা-নাশতায় সীমাবদ্ধ  থাকত। কখনো কখনো মোবাইলে প্রায়ই কথা হতো।

    ৭ মার্চ ২০২০। হঠাৎ একটি ফোন আসলো। জাফর খুব অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি। আদদ্বীন বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আমার শ্রদ্ধাভাজন চাচাতো ভাই জনাব আলহাজ্ব একরামুল হক শিষন ভাইসহ দুপুর নাগাত ধানমন্ডি জাপান-বাংলাদেশ হাসপাতালে গিয়ে হাজির হলাম। ওর বড় ভাই জনাব আবুল খায়ের কালু ভাইয়ের সাথে কথা বলছি। এর কিছুক্ষণ পরই ডাক্তার আমাদের ভেতরে ডাকলেন। ডাক্তার তখন বললেন, “জাফর সাহেব আর পৃথিবীতে বেঁচে নেই।” ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে যায়।

    সময় দ্রুত চলে যায়। মানুষ তার কর্মে বেঁচে থাকে। মানুষকে ভালো ভেসেছে সে। ছিল বিশাল হৃদয়ের অধিকারী এবং আপ্যায়নপ্রিয় একজন সুন্দর সাদা মনের মানুষ। এভাবেই বেঁচে থাকবে সবার হৃদয়ের মণিকোঠায়। পরম করুণাময় আল্লাতায়ালা প্রিয়ভাজন জাফরকে জান্নাতবাসী করুন।

     

     

    লেখক পরিচিতি-

    মনির হোসেন

    সাধারণ সম্পাদক

    ঢাকাস্থ তিতাস সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ।

    গ্রাম ও ডাকঘর : লাউর ফতেহপুর, ব্যাপারী বাড়ী

    নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

    E-mail : monirhossain201480@gmail.com

    Comments

    comments

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে