• শিরোনাম

    বর্তমানে ৬০ শতাংশ অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে আরো বাড়ছে ১০ শতাংশ

    উচ্চমূল্য সত্ত্বেও সিমেন্টের দাম বাড়াতে উদ্যোগ

    নিউজ ডেস্ক | মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 794 বার

    বর্তমানে ৬০ শতাংশ অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে আরো বাড়ছে ১০ শতাংশ

    বাজারে এখন কোম্পানি ভেদে প্রতিব্যাগ সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ টাকা থেকে ৪৭০ টাকায়। তাতেই আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে পার্থক্য প্রায় ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেশি দামে বাংলাদেশে সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে। এবার আরো দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন এ শিল্পের উদ্যোক্তারা। এক মাসের মধ্যে সিমেন্টের দাম ১০ শতাংশ বাড়াতে চান তারা। এ খাতের উদ্যোক্তাদের দাবি আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বেড়েছে, বেড়েছে আমদানি খরচও। পর্যায়ক্রমে তিন দফায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন তারা। 

    সিমেন্ট খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) সিমেন্ট উৎপাদনে খরচ বেড়েছে প্রতিব্যাগে ৪০ টাকা। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কাঁচামাল পেতে সময়ক্ষেপণ, দেড় মাসের ব্যবধানে ডলারের মূল্য ৫-৬ টাকা বেড়ে যাওয়া, নতুন নির্দেশনায় সড়কপথে গাড়িতে পণ্য বোঝাইয়ের পরিমাণ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে গত তিন মাসে ক্লিংকারসহ সিমেন্টের অন্যান্য কাঁচামালের দাম ৫ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার কারণেই মূলত উৎপাদন খরচ বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।সূত্রমতে, বিশ্ববাজারে সিমেন্টের অন্যতম কাঁচামাল ক্লিংকারের প্রধান সরবরাহকারী চীন। দেশটি থেকে মানভেদে প্রতিটন ক্লিংকার আমদানিতে খরচ পড়ে ৩৫-৪২ ডলার।

    এর সঙ্গে অন্যান্য খরচ মিলিয়ে দেশে সিমেন্ট উৎপাদনে টনপ্রতি ব্যয় হয় সর্বোচ্চ ৭০ ডলার বা ৫ হাজার ৬০০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি টন সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬০ ডলার বা ৪ হাজার ৮০০ টাকায়। অথচ দেশের বাজারে বর্তমানে ৫০ কেজি ওজনের প্রতিব্যাগ সিমেন্টের গড় দাম কোম্পানিভেদে ৩৬০-৪৭০ টাকা।

    এতে টনপ্রতি বাজারমূল্য দাঁড়ায় সর্বনিম্ন ৮ হাজার টাকা বা ১০০ ডলার। এ হিসাবে বাংলাদেশে সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি দামে।বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে উপকরণের দাম কমলেও অলিগোপলি বা অপূর্ণ প্রতিযোগিতার (গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য) কারণে দেশে সিমেন্টের দাম কমছে না। যদিও দাম কমানো হয়েছে বলে দাবি উৎপাদকদের। তবে ব্যাগপ্রতি (৫০ কেজি) ১০-২০ টাকা কমানো আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সম্প্রতি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসলের তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে সিমেন্ট শিল্পের বাজার ১৭৪ কোটি ডলারের। এর ৮৫ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষ ১০ কোম্পানি। আর শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির হাতে রয়েছে মোট বাজারের ৪৮ দশমিক ১২ শতাংশ।

    এর মধ্যে ১৫ দশমিক ৯১ শতাংশ দখল করে আছে শাহ সিমেন্ট। ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ বাজার দখল নিয়ে এর পরই রয়েছে হাইডেলবার্গ। অন্য বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মেঘনা সিমেন্টের দখলে রয়েছে এ বাজারের ৮ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, হোলসিমের ৭ দশমিক ৪ ও লাফার্জের ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। কোম্পানিগুলো উৎপাদিত সিমেন্ট আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে ৬০-৬৫ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি করছে। আর নিজেদের উৎপাদন খরচের চেয়ে বেশি রাখছে ৪০ শতাংশ।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফ্রেশ ব্র্যান্ডের ৫০ কেজি ওজনের প্রতিব্যাগ সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৩৭০-৪১০ টাকায়।

    হাইডেলবার্গের স্ক্যান সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৪২৫ টাকায়, লাফার্জের সুপারক্রিট ৪৫০, হোলসিম ৪০০-৪৭০ ও আকিজ সিমেন্ট ৪২০ টাকায়। বেশির ভাগ কোম্পানির সিমেন্টের দামই ৪শ টাকার উপরে।সিমেন্টের দামে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব। তাদের মতে, নির্মাণ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সিমেন্ট। পণ্যটির দাম সহনীয় থাকলে নির্মাণ খাত স্বস্তি আসবে। সরকারি বড় উন্নয়ন প্রকল্প ও ব্যক্তিখাতে নির্মাণ বাড়তে থাকায় সক্ষমতার প্রায় পুরোটাই এখন কাজে লাগাতে পারছেন সিমেন্ট খাতের উদ্যোক্তারা। এজন্য সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রমও এগিয়ে নিচ্ছেন শীর্ষস্থানীয়রা। আমদানি পর্যায়ে চট্টগ্রাম কাস্টমের সম্প্রতি তথ্য বিশ্লেষণেও এর প্রমাণ মেলে। বর্তমানে সরকারের সাতটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার কোটি ডলার। সিমেন্টের দাম বাড়লে এসব প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ১০ শতাংশ বাড়বে বলে মনে করছেন তারা। কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় জাহাজ ভাড়াও বেড়েছে। ক্লিংকারসহ অন্যান্য কাঁচামালের মূল্য বেড়েছে ৫ ডলার পর্যন্ত। মূল্যবৃদ্ধির আন্তর্জাতিক কারণগুলো নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আমাদের নেই।

    কিন্তু দেশের ভেতরে যেসব ঘটনা মূল্যবৃদ্ধিকে উসকে দিচ্ছে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী এখন আমাদের গাড়িপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কম পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে আগের ভাড়াতেই। শুধু এ কারণেই প্রতিব্যাগে খরচ বেড়েছে ১৫ টাকা পর্যন্ত। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর ও বহির্নোঙরে জাহাজ জট এবং লাইটার জাহাজের স্বল্পতা আমাদের বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে। এদিকে বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি ও চট্টগ্রামভিত্তিক ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল খালেক পারভেজ বলেন, গত কয়েক মাস যাবৎ আমাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। সিমেন্টের দাম না বাড়িয়ে উদ্যোক্তাদের কোনো উপায় নেই।

    কোম্পানিগুলো এখন ৫০ কেজির প্রতিব্যাগ সিমেন্টে ৪০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনছি। হঠাৎ করে পণ্য পরিবহনে খরচ বৃদ্ধি, বিদেশে সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকারের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ জটসহ লাইটার সংকট প্রভৃতি কারণে লাভের পরিবর্তে এখন লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। মার্কিন ডলারের দাম বেড়ে ৮৫ টাকায় ঠেকেছে। সূত্রমতে, বাজারে বর্তমানে কোম্পানিভেদে ৫০ কেজির প্রতিব্যাগ সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৪৭৫ টাকা দরে। তবে সিমেন্টের দাম বেড়ে গেলে ব্যক্তিখাতে নির্মাণসহ সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানোর ফলে কয়েক বছর ধরে প্রতিযোগিতামূলক দামে সিমেন্ট সরবরাহ করতে পারছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এক বছরে সিমেন্ট খাতের বিক্রয় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি। এ সময়ে দেশে সিমেন্টের দাম কমেছে গড়ে ৪ শতাংশ পর্যন্ত। বাংলাদেশে সিমেন্টের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাণে। এর পর পরই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার রয়েছে সরকারি বিভিন্ন ভবন নির্মাণ ও আবাসন খাতের ভবন নির্মাণে। তবে বর্তমানে সরকারি অবকাঠামো খাতে বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প চালু থাকায় সিমেন্টের চাহিদা দ্রূত বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে বাড়তি চাহিদা পূরণে বেশির ভাগ কারখানা সম্প্রসারনে যাচ্ছে। সিমেন্টের দাম বাড়লে আবাসন খাত ও সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে গিয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধির হার বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন তারা। এদিকে অতিরিক্ত লাভের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন উৎপাদকরা।

    বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও মেট্রোসেম সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত সুবিধা দেয়ার কারণে সিমেন্টের মূল্য সুবিধা গ্রাহকরা পান না। এক ব্যাগ সিমেন্টের দাম ৫০০ টাকা হলে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার কমিশন এবং পরিবহনে ব্যয় হয় ১০০ টাকা। এ কারণে গ্রাহক পর্যায়ে দাম বেশি পড়ে। দেশে সিমেন্টের চাহিদা রয়েছে বছরে ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে দুই কোটি টন। এর বিপরীতে খাতটির উৎপাদন সক্ষমতা ৩ কোটি ৩০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ টন।

    চাহিদা কম থাকায় কারখানাগুলো উৎপাদন ক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না। সক্ষমতার গড়ে ৬০-৬৫ শতাংশ অব্যবহৃত থাকছে।চট্টগ্রাম কাস্টমের তথ্যমতে, বিশ্ববাজারে সিমেন্টের অন্যতম কাঁচামাল ক্লিংকারের প্রধান সরবরাহকারী চীনসহ থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম প্রভৃতি দেশ। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মোট পণ্য আমদানি হয়েছে প্রায় ১৪০ লাখ টন। পাঁচ হাজার ধরনের পণ্যের সে তালিকায় সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার, যা পরিমাণগত দিক থেকে ২৯ লাখ ৮৯ হাজার টন। প্রতিটন ক্লিংকার আমদানিতে খরচ পড়ছে এখন সর্বোচ্চ ৬০ ডলার।

    সূত্র: দৈনিক ডেসটিনি

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    একজন মন্ত্রীর পুরনো দুই টিনের ঘর

    ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | 2688 বার

    তিন বোনের এক স্বামী

    ০৫ জানুয়ারি ২০১৯ | 890 বার

    এত লাশ এত কান্না

    ২০ মার্চ ২০১৮ | 840 বার

    পুলিশ হতে চাই ৫ যমজ ভাই-বোন

    ১৪ জানুয়ারি ২০১৮ | 762 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে nabinagar71.com