• শিরোনাম

    এক বাড়িতেই ২৬ ভিক্ষুক!

    মনোতোষ হাওলাদার, বামনা (বরগুনা)    | মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯ | পড়া হয়েছে 466 বার

    এক বাড়িতেই ২৬ ভিক্ষুক!

    ছবিঃ কালের কণ্ঠ

    অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই সত্যি এক বাড়িতেই ২৬ জন ভিক্ষুকের বসবাস। ঘটনাটি বরগুনার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের খোলপটুয়া গ্রামের লওয়াই বাড়ির। ভিক্ষুক বাড়ি নামেই এই বাড়ির পরিচিতি। মরহুম আঃ লতিফ ওরফে লওয়াই এর নামানুসারে এই বাড়িটি স্থানীয়দের কাছে লওয়াই বাড়ি নামেই পরিচিত। এই বাড়িতে মোট ১৪টি পরিবারের বসবাস। প্রতিটি পরিবারেই কেউ না কেউ পেশা হিসেবে ভিক্ষাবৃত্তিকেই বেছে নিয়েছেন। তবে এই বাড়িতে পুরুষ ভিক্ষুককের চেয়ে নারী ভিক্ষুকই বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়

    আপাত দৃষ্টিতে তাদের এই বাড়ির সকলের ভিক্ষাবৃত্তিকে ব্যবসায়িক মনে হলেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বাড়ির বেশির ভাগ পুরুষ শারীরিক পরিশ্রমে অক্ষম এবং নারীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত কর্মক্ষেত্র। তাই জীবনের তাগিদে বাড়ির সব নারীকেই বেছে নিতে হয়েছে ভিক্ষাবৃত্তি।

    ঘুর্ণিঝড় সিডর পরবতী সময়ে লওয়াই বাড়ির ১৪টি পরিবারকে একটি বেসরকারি সংস্থা মাথা গোজার ঠাঁই করে দিলেও বর্তমানে সব ঘর গুলোরই জরাজীর্ণ দশা। সামান্য ঝড়ো হাওয়ায় উড়ে যাবে তাদের বসতঘর।

    সরেজমিনে আরো দেখা গেছে, এই বাড়িতে মাতৃস্নেহ ছাড়াই বেড়ে উঠছে বাড়ির ছোট ছোট শিশুরা এবং বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার সুযোগ থেকে। লওয়াই বাড়ির ভিক্ষুক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় প্রভাব পড়ছে তাদের উপার্জনে। একজন সাধারণ ভিক্ষুকের থেকে তাদের উপার্জন অনেক কম এবং ক্রমশ দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে তাদের জীবনযাত্রার ব্যায় ভার বহন।

    খোলপটুয়া গ্রামের লওয়াই বাড়ির ভিক্ষাবৃত্তি পেশায় থাকা আঃ গনি লওয়াই বলেন, ‘মোর বাপে হেই কোলে থাহা অবস্থায় মরছে। মায় তিন ভাই বোনরে কি খাওয়াইয়া মানু হরবে। হের লইগ্যা মায় ছোট থেকেই মোরে কোলে কোলে লইয়া ভিক্ষা হরছে। হ্যার পর মায়ও মরছে। এহন মুই কি খামু। হের লইগ্যা মুইও ছোডকাল থেইক্যা ভিক্ষা হরি। মোর একটা পা দিয়া হাটতেও পারি না। মোগো বাড়ির ভিক্ষুদের কেউ ভালো চোহে দ্যাহে না। বয়স্ক ভাতা ছারা মোরা কিছুই পাই না।’

    শুধু গনিই লওয়াই নয় মোশ্বেদা, তাজেনুর, কুলসুম, ফাতেমা, হনুফা, ছকিনা, মালেকা, রিজিয়া, খোদেজা, ময়না, হালিমা, খোকন, রাবেয়া, রেখাসহ এ বাড়ির সকলের একটাই অভিযোগ কেউ তাদের খোঁজ রাখে না। কোন সাহায্য সহযোগিতা দূরে থাক তারা যাতে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে এই ভিক্ষাবৃত্তি পেশা ছাড়তে পারে এই পরামর্শটুকুও কেউ কোন দিন তাদের দেয়নি। তারাও চায় সমাজের অন্য সকলের মতো কাজ করতে। ভিক্ষাবৃত্তির অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে।

    বিভিন্ন সময় বামনার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বামনাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও তার ছোয়া এসে পৌঁছায়নি এই বাড়িতে। সক্ষম নারী ভিক্ষুকদের সাথে কথা বলে দেখা গেছে যে তারা শুধু মাত্র কর্মসংস্থানের অভাবেই ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নিয়েছে। তারাও চায় সম্মানজনক পেশায় যুক্ত হতে। মুছে ফেলতে চায় তাদের ভিক্ষুকের পরিচয়। তারাও স্বপ্ন দেখে তাদের সন্তানেরা বেড়ে উঠবে অন্য সব সাধারণ শিশুদের মত।

    বামনা উপজেলা সমাজ সেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে মোট ২৪১ জন ভিক্ষুক রয়েছে। এর মধ্যে বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে ৬৮ জন, বামনা সদর ইউনিয়নে ৪৮ জন, রামনা ইউনিয়নে ৫৭ জন ও ডৌয়াতলা ইউনিয়নে রয়েছে ৬৮ জন ভিক্ষুক।

    একই বাড়িতে ২৬ জন ভিক্ষুকের বিষয়ে রামনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ. খালেক জমাদ্দার বলেন, এদের পেশাই ভিক্ষাবৃত্তি। এদের কোন কাজ দিলেও এরা করে না। আমি বহুবার তাদের কর্মমূখী করার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু এরা কাজ করতে আগ্রহী নয়।

    বামনা উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মিজান সালাহ উদ্দিন বলেন, সারাদেশে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ বর্তমান সরকার হাতে নিয়েছে। আমরা এ সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছি। সে অনুসারে আমাদের তালিকাও করা হয়েগেছে। সরকার অর্থ বরাদ্দ দিলে আমরা এ উপজেলার ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবো।

    বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি বলেন, এটা আসলেই অবিশস্য বিষয়। এক বাড়িতে ২৬ জনই ভিক্ষাবৃত্তি পেশার এই প্রথম শুনলাম। তবে তাদের পুনর্বাসন ও আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    কালের কণ্ঠ

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | 2811 বার

    তিন বোনের এক স্বামী

    ০৫ জানুয়ারি ২০১৯ | 963 বার

    এত লাশ এত কান্না

    ২০ মার্চ ২০১৮ | 940 বার

    পুলিশ হতে চাই ৫ যমজ ভাই-বোন

    ১৪ জানুয়ারি ২০১৮ | 828 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে nabinagar71.com