• শিরোনাম

    কার অনুমতিতে শাবিপ্রবিতে পুলিশের গুলি?

    সিলেট ব্যুরো  | বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২ | পড়া হয়েছে 103 বার

    কার অনুমতিতে শাবিপ্রবিতে পুলিশের গুলি?

    ছবি : সংগৃহীত

    শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর গুলি ছোঁড়ার ঘটনায় উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে কার অনুমতিতে গুলি চালায় পুলিশ।

    সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন সিলেটের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম গুলি ছোঁড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর পুলিশ বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করারই অধিকার রাখে না। সেখানে অনুমতি ছাড়া গুলি চালানো অসম্ভব। আমরা জানতে চাই, গুলি চালানোর অনুমতিটা কে দিলেন। সেই সাথে জঘন্য এ ঘটনায় ধিক্কার জানানো ছাড়া কোনো মন্তব্য নেই।’

    পুলিশ বলছে, আত্মরক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই গুলি-সাউন্ড গ্রেনেড ছোঁড়া হয়। পুলিশের দাবি, শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ককটেল ও গুলি চালানো হলে পুলিশ ‘রাইট অব প্রাইভেট ডিফেন্স’র আলোকে পদক্ষেপ নেয়।

    মূলত যে ঘটনার কারণে প্রভোস্ট পদত্যাগের আন্দোলন এখন উপাচার্য পদত্যাগের দাবিতে রূপ নেয় সেটির সূত্রপাত হয় রোববার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায়। সেদিন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনদফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে মুক্ত করতে ছাত্রদের সাথে সংঘর্ষে জড়ায় পুলিশ। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে পুলিশেত পক্ষ থেকে অজ্ঞাত ৩০০ জনকে আসামি করে মামলাও করা হয়েছে।

    পুলিশ জানায়, সেদিন লাঠিচার্জ ছাড়াও ৩১ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ২১ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে আইআইসিটি ভবনের তালা ভেঙে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ। এসময় পুলিশের ১০ সদস্য ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা গুলিবিদ্ধ হন।

    তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, পুলিশের গুলিতে এ সময় আহত হন অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী। যার একজন এখন হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

    জানতে চাইলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী নয়া শতাব্দীকে বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে পুলিশ ও শিক্ষকদের লক্ষ্য করে ককটেল ও গুলি ছোঁড়া শুরু করলে নিজেদের আত্মরক্ষায় এবং শিক্ষকদের রক্ষা করতে বাধ্য হয়েই এ ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়েই আত্মরক্ষার্থে লাঠিচার্জ করি, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। তারপর উপাচার্যকে মুক্ত করে নিরাপদে তার বাসভবনে নিয়ে যাই।’

    ছাত্রদের লক্ষ্য করে পুলিশের লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোঁড়ার অনুমতির বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া শতাব্দীকে বলেন, ‘বিষয়টি পুরোটাই তদন্তাধিন। এটি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। তারা তদন্ত করে বের করবেন কীভাবে কী হয়েছে।’

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন আহমেদ লিজার পদত্যাগের দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন। রোববার সকাল থেকে আন্দোলন চলতে থাকা অবস্থায় বিকেল ৩টার দিকে উপাচার্য একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে যোগ দিতে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হলে তার পথ আগলে দাঁড়ায় শিক্ষার্থীরা। ওইদিন সন্ধ্যায় ঘটে সংঘর্ষের ঘটনা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাতেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়।

    ওইদিন রাতেই গণমাধ্যমর মুখোমুখি হন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ। তিনি দাবি করেন, এ সময় তার উপর আক্রমণের চেষ্টা চালায় আন্দোলনরত কিছু শিক্ষার্থী। তখন অন্য শিক্ষকরা তাকে নিয়ে দ্রুত এমএ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনে আশ্রয় নিলে ভবনের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি শিক্ষার্থীরা আমাদের উপর আক্রমণ করবে।’

    উপাচার্য বলেন, ‘ছোটখাটো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা যা ঘটালো তা দুঃখজনক। আমরা তাদের দাবির একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছব, এমন সময় পেছন থেকে কারা পুলিশের উপর হামলা চালায়। এতেই সংঘর্ষ হয়।’

    এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন বিকাল সাড়ে ৫টায় আন্দোলনরত ২-৩শ’ উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী হঠাৎ কর্তব্যরত পুলিশের ওপর চড়াও হয়। তারা সরকারি আগ্নোয়াস্ত্র ধরে টানাটানি করে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। চারদিক থেকে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোঁড়ে। এ ছাড়াও পুলিশের উপর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীরা সেদিন সোয়া ৩টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা অবধি ক্যাম্পাসে অবস্থান করে থেম থেমে পুলিশের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রাখে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জানমাল, আগ্নেয়াস্ত্র ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় ১১ রাউন্ড রাবার কার্তুজ ও ২০ রাউন্ড সিসা কার্তুজসহ মোট ৩১ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোঁড়ে। এছাড়া সিআরটি ২১টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ভিসিকে উদ্ধার করা হয়।

    তবে আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র মারুফ বলেন, ‘আমাদের উপর হামলার পর মামলায় আমাদেরকেই আসামি করা হয়। তাই আমরা মঙ্গলবার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম মামলা প্রত্যাহার করা না হলে সারারাত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমরা সারারাত অবস্থানে ছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের উপর দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি।’

    মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়। মূলত মামলাটি প্রশাসনিক কারণেই করা হয়েছে। তবে মামলায় কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি।

    অপরদিকে নির্ধারিত সময়ে উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়ায় আমরণ অনশন শুরু করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

    বুধবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ৩ টার দিকে উপাচার্যের বাসভবেন সামনে প্রায় ২৪ জন শিক্ষার্থী অনশনে বসেন। এসময় শ্লোগান অব্যাহত রাখেন অগণিন শিক্ষার্থী।

    অনশনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জাহিদুল ইসলাম নিজের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করে বলেন, যে প্রশাসন, উপাচার্য এবং শিক্ষকরা আমাদেরকে পুলিশ দিয়ে পেঠায় আমরা তাদের অবাঞ্চিত ঘোষণা করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা, উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডি পদত্যাগ না করছেন ততক্ষণ আমরা অনশনে থাকব। এতে যদি কোন শিক্ষার্থীর প্রাণনাশ হয় তাহলে এর জন্য দায়ী থাকবেন উপাচার্য, প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    কুমিল্লায় সাংবাদিককে হুমকি

    ১৭ অক্টোবর ২০২০ | 419 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে