• শিরোনাম

    বছরে ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

    কুমিল্লার পর্যটন এলাকা কোটবাড়ির দুটি সড়কের বেহাল দশা

    জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, কুমিল্লা প্রতিনিধি: | সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯ | পড়া হয়েছে 132 বার

    কুমিল্লার পর্যটন এলাকা কোটবাড়ির দুটি সড়কের বেহাল দশা

    কুমিল্লার পর্যটন এলাকা কোটবাড়ির দুটি সড়কের বেহাল দশা

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কুমিল্লা শহরের দূরত্ব ১১ কিলোমিটার। কিন্তু এই ১১ কিলোমিটার অত্যন্ত পথেরই বেহাল দশা । এই ১১ কিলোমিটারের মধ্যে শুধু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, আছে বেশ কয়েকটি র্শনীয় স্থান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

    কুমিল্লা বিদ্যালয়সহ শালবন বিহার, ময়নামতি যাদুঘর, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুটিলা মুড়া, রুপবান মুড়া, নব শালবন বিহার, ব্লু ওয়াটার পার্ক, ডাইনো পার্ক, মেজিক প্যারাডাইস পার্কসহ বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক নিদর্শন ও বিনোদন পার্কসহ র্শনীয় স্থানগুলোর অনেকগুলোই বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশসহ এই অঞ্চলে অবস্থিত।

    তাছাড়া এখানে রয়েছে কুমিল্লা ক্পযাডেট কলেজ, লিটেকনিক ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে বোর্ড কলেজ, বর্ডার গার্ড স্কুল এন্ড কলেজ, ল্যাবরেটরি স্কুল, সি সি এন পলিটেকনিক, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক সরকারি ও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এই স্থানে আসতে এবং ঘুরতে আসার্শনার্থীদেরও পোহাতে হয় অবর্ননীয় দুর্ভোগ।

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সমৃদ্ধ এলাকা শালবন বৌদ্ধবিহার ও ময়নামতি জাদুঘরে যাওয়ার দুটি সড়কের অত্যন্ত বেহাল দশা।

    কুমিল্লা কোটবাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের ৩০টি অংশে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে সড়কটি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বেলতলী বিশ্বরোড থেকে জাদুঘর ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের রাস্তাটিও প্রায় একই অবস্থা। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী, পর্যটক, দর্শনার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

    সড়ক দুটির বেহাল দশা হওয়ায় দিন দিন শালবন বৌদ্ধবিহার ও ময়নামতি জাদুঘরে দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আর রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হওয়ায় পর্যটক সংখ্যা কমে গিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

    মাঝারি ও ছোট বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে সড়কের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। এ ছাড়া ৩০টিরও বেশি বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে পলিটেকনিক থেকে ক্যাডেট কলেজ, নব শালবন প্রবেশ পথ থেকে জাদুঘর পর্যন্ত সড়কটিতে।

    এ সড়কের চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বড় গর্তগুলো অতিক্রম করতে গিয়ে প্রায়শই উল্টে পড়ে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তির অন্ত নেই।

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং শালবন বৌদ্ধবিহারে আসা পর্যটকরা রাস্তার বেহাল দশার জন্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সড়কের যে বেহাল দশা তা বর্ণনা করা কঠিন। সড়ক দ্রুত সংস্কার না হলে কেউ পয়সা খরচ করে দুর্ভোগ ভোগ করতে আসবে না।

    প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, সড়ক খারাপ হওয়ায় কুমিল্লা শালবন বৌদ্ধবিহার ও ময়নামতি জাদুঘরসহ দর্শনীয় স্থানগুলোর পর্যটক কমছে। চলতি অর্থবছরে শালবন বৌদ্ধবিহার ও ময়নামতি জাদুঘরের দেড় কোটি টাকা রাজস্ব অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।

    তিনি জানান, এ এলাকাটি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪নং ওয়ার্ডের মধ্যে পড়েছে।এ সড়কটি সংস্কারের জন্য জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশন ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষের বরাবর আবেদন করেছেন। জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীরকে এই বিষয়ে জানানো হলে তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘অচিরেই সড়কটি সংস্কার করা হবে।’

    অপরদিকে কুমিল্লা শহর থেকে কোটবাড়ীতে যাতায়তের একমাত্র সড়ক  রামমালা সড়কেরও বেহাল দশা। এখানেও বড় বড় গর্ত হয়ে আছে। এ সড়কেরও ভোগান্তির সীমানা নেই।

    এ বিষয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে শালবন পর্যন্ত সড়টি টেন্ডার হয়ে গেছে।’ জুন মাসের শেষের দিকে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে nabinagar71.com