• শিরোনাম

    তবুও প্রিয়াসাহা একজন বাংলাদেশি

    আজিজুল সঞ্চয় | শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯ | পড়া হয়েছে 134 বার

    তবুও প্রিয়াসাহা একজন বাংলাদেশি

    তবুও প্রিয়াসাহা একজন বাংলাদেশি

    মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দল হিসেবে পরিচিত বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নানা সময় অনুষ্ঠানে তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রের কথা বলে থাকেন। তাদের মতে ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র থামেনি।

    যখনই বাংলাদেশ উন্নয়নের অগ্রযাত্রার পথে ধাবিত হয় ঠিক তখনই কোনো না কোনো ষড়যন্ত্র শুরু হয়। বলার অপেক্ষা রাখে না বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশে নানা সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তিসহ সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের সুফল ভোগ করছেন দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণ।

    হাজার ষড়যন্ত্রের পরও বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেই। একজন প্রিয়া সাহার মিথ্যাচার বাংলাদেশকে আর দমাতে পারবে না। বাংলাদেশের ইতিহাস সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই বাংলাদেশ সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের দেশ।

    স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছে। দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ দিয়ে সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছে। উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমান সরকারের আমলেই দেশে ত্রি জি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা চালু হয়েছে। এখন প্রস্তুতি চলছে ফাইভ জি ইন্টারনেট সেবা ব্যবস্থা চালুকরণের।

    ‘চক্রান্তের’ অংশ হিসেবে দুর্নীতির অভিযোগ এনে যে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করেনি সেই স্বপ্নের পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে এখন বাস্তবায়ন হচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল।

    যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ বাধাগ্রস্ত করতে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ওপর, শেখ হাসিনার ওপর নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা সেই চাপ সামলে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ সম্পন্ন করে বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন।

    কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র আজও থামেনি, বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে স্বাধীনতাবিরোধী চক্ররা এখনও নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আর বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার সব থেকে কার্যকরী কৌশল হলো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানো। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে যে কয়েকটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরের ঘটনাটি উল্লেখযোগ্য।

    ২০১৬ সালেরর ৩০ অক্টোবর ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম অবমাননা করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাসিরনগর উপজেলা সদরে বেশ কয়েকটি মন্দির ও ঘর-বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে দুস্কৃতিকারীরা। নাসিরনগরে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা সব ধর্মের মানুষের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে ধ্বংস ও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই সেই হামলা চালায় দুস্কৃতিকারীরা। কিন্তু সেই হামলার সময় মুসলমান ধর্মের অনেক মানুষ আক্রান্ত হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।

    সরকার যেমন আক্রান্তদের নিরাপত্তা দেয়াসহ পুনর্বাসনে সব ধরনের সহায়তা করেছে তেমনি স্থানীয় মুসলমানরাও সেই হামলার নিন্দা জানিয়ে হিন্দুদের মনে সাহস যুগিয়েছে। বাংলাদেশে যে আনন্দঘন পরিবেশ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সব ধর্মের মানুষ তাদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করেন তা উল্লেখ করার মতো। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার মোড়কে আবারও বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

    গত ১৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশি নাগরিক প্রিয়া সাহা অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদেরকে ‘গুম’ করা হচ্ছে, তারা বাংলাদেশে নিরাপদ নন। এজন্য মুসলিম উগ্রবাদী আর রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে দায়ী করে ট্রাম্পের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    তার এই অভিযোগ যেন নতুন করে বাংলাদেশকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি উদ্দেশ্যমূলক বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, কেন প্রিয়া সাহা এই অভিযোগ করেছেন সেটি খতিয়ে দেখা হবে।

    তবে প্রিয়া সাহার ‘ভিত্তিহীন’ এই অভিযোগ অনেকেই ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে নিন্দার ঝড় ওঠেছে। ইতোমধ্যে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে আন্তর্জতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ধর্মের মানুষদের ‘গুম’ নিয়ে প্রিয়া সাহা যে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছেন সেটিকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন অনেকে। তিনি ব্যক্তিগত ফায়দা কিংবা অসৎ উদ্দেশ্যে নিজ দেশের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যাচার করলেন কিনা সেটি খতিয়ে দেখার দাবি ওঠেছে সবমহল থেকে। দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করার এই নোংরা প্রবণতার জন্য নিন্দা জানাচ্ছেন সবাই।

    তবে হাজার ষড়যন্ত্রের পরও বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেই। একজন প্রিয়া সাহার মিথ্যাচার বাংলাদেশকে আর দমাতে পারবে না। বাংলাদেশের ইতিহাস সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই বাংলাদেশ সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের দেশ। তবে নিজ দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করলেও বাংলাদেশ প্রিয়া সাহার দেশ, তিনি এদেশের একজন সম্মানিত নাগরিক।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    জীবন গড়ার শিক্ষা

    ১৩ মার্চ ২০১৮ | 734 বার

    ৩০ নভেম্বর হরতাল

    ২৮ নভেম্বর ২০১৭ | 431 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে nabinagar71.com