• শিরোনাম

    আমার প্রিয় শিক্ষক ফিরুজ স্যার

    দিপুরে কত দিন তর পাগলামী দেখিনা………!

    দিপু আহমেদ | বুধবার, ০২ মে ২০১৮ | পড়া হয়েছে 1340 বার

    দিপুরে কত দিন তর পাগলামী দেখিনা………!

    আমার প্রিয় শিক্ষক ফিরুজ স্যার

    মাঝি বিহীন যেমন কোনো নৌকা নদীতে পথ প্রদর্শন করে চলতে পারে না।তেমন একজন আদর্শ ন্যায়নীতিবান, সৎ শিক্ষক ছাড়া একজন ছাত্র মানুষের মতো মানুষ হতে পারে না।মানুষ হওয়ার জন্য দরকার শিক্ষা।আর সেই শিক্ষা কেউ মায়ের গর্ভ থেকে শিখে আসতে পারে না।

    ছাত্র-শিক্ষক ছাড়া মানুষের মতো মানুষ হয়েও প্রকৃত মানুষের রূপ ধারণ করতে পারেনা।জীবন থেকে কিছু শিখতে হলে অবশ্যই একজন আদর্শবান, ন্যায়নীতিবান শিক্ষকের হাতেই শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়। শিখতে হয় সুশিক্ষা অত্যধিক জ্ঞান ও অনুকরণ গ্রহণ করতে হয়।

    তেমনী আমার এমন একজন প্রিয় শিক্ষক রয়েছে। যার কথা আমি লেখায় ও মুখের ভাষায় বলে প্রকাশ করতে পারবোনা। যা শুধু একটাই নাম, একসময় শোনা যেতো তিনি আর কেউ নয়।তিনি হলেন, একজন ম্যাকানিক্যাল কারিগর মোঃ ফিরুজ ইকবাল স্যার।

    প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করে যখন হাইস্কুলে উঠি, হাইস্কুলে উঠেই  অল্প সময় ক্লাসে তার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে।আমার শিক্ষা জীবনে আজও যিনি প্রিয় ভালোবাসার খাতায় নাম লেখিয়ে নিয়েছেন। আমাকে হৃদয়ে টেনে নিয়েছেন যিনি, তিনিই সেই ফিরুজ ইকবাল  স্যার।

    যার মধ্যে রয়েছে একজন ভালো শিক্ষক হওয়ার সকল গুণাগুণ। ছাত্র জীবনে সমাজ গড়ার অঙ্গীকারে ব্রত হয়ে তিনি আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে আলোর দিশারী হয়ে ছিলেন। স্যারের ক্লাসগুলো আমার কাছে খুবই ভালো লাগতো। স্যারের সাথে আমার তৈরি হলো বন্ধুত্বের মতো সম্পর্ক।

    মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট বের হবার পর দেখি আমার ফলাফল খারাপ। আমি খুবই মন খারাপ করে বসেছিলাম। তখন স্যার আমার কাছে এসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, ‘ব্যর্থতার মাঝেই সফলতা আসবে’।স্যারের সে কথা আমি আজো মনে রেখেছি এবং ব্যর্থতা মনে নিয়েই সফলতার পেছনে ছুটছি। এরপর সামসুল হক কলেজে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে আমি স্যারকে ফোন দেই। স্যার আমাকে বলেন, কোনো সমস্যা নেই আমি আছি।তর যা কিছু দরকার আমাকে বলবি।

    ঠিকই, আমার ভর্তি হতে যা কিছু প্রয়োজন হলো, তার সবকিছুই স্যার যোগাড় করে দিয়েছেন।

    একাদ্বশ শ্রেণীর ফাইনাল পরীক্ষায় আমি ভালো রেজাল্ট করি। দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়াশোনা করা অবস্থায়ও স্যারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। স্যারও আমাকে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। আমি স্যারকে দেখেছি, গরিব ছাত্রদের মাঝে আলোর মশাল নিয়ে হাজির হতে।

    অনেক গরিব ছাত্রদের তিনি নিজের অর্থায়নে পড়াশোনা করান। নিয়মিত খোঁজ-খবরও রাখতেন। শিক্ষক হিসেবে আমি কখনোই দেখিনি স্যারকে অর্থের পেছনে ছুটেতে। স্যার বলতেন, শিক্ষকতা হচ্ছে মহান পেশা। এ পেশাকে অর্থের সাথে কখনোই মেলানো সম্ভব না। কারণ, পৃথিবীতে কোনো কিছুর বিনিময়ে শিক্ষাকে অন্যান্য পন্যের মতো কেনা যায়না বা তুলনা করা যায়না। স্যার আমাদের বলতেন, শিক্ষা কোনো পন্য নয়, শিক্ষা আমাদের অধিকার। সুতরাং, আমাদের সবাইকে নিরলসভাবে জ্ঞানার্জনের জন্য চেষ্টা করতে হবে।স্যার আমাদের ভেতর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উদ্বুদ্ধ করতেন।

    স্যার এখন অসুস্থ অনেক দিন পর স্যার কে দেখতে গেলাম স্যার আগের মতই আমাকে মনে রেখেছে।

    দিপুঃ আসসালামুআলাইকুম স্যার কেমন আছেন ?

    ফিরুজ স্যারঃ উয়ালাইকুম আসসালাম ভাল আছি কে তুমি?

    দিপুঃ স্যার আমি আহাম্মদপুরের দিপু!আমাকে চিনেছেন। ফিরুজ স্যারঃ কি বলে সে পাগল রে আবার চিনেনা কেমনে!আই পাগল আই আমার কাছে আই! স্যার আবেগময় হয়ে বলেন দিপুরে কত দিন তর পাগলামি দেখিনা!একদিন শুনবি তর ফিরুজ স্যার আর নেই! তুই কেমন আছিস আমার বাকি পাগল গুলো কেমন আছে। আমার জন্য সবাইরে দোয়া করতে বলিস………………!

    স্যার বেশ কিছুক্ষন সময় নিয়ে আলাপ আলোচনা করল। আমি কিছুক্ষন সময় চুপ করে শুধু শুনলাম।আর ভাবতে লাগলাম আমার কি স্যার আজ কি হয়ে গেছে। কিছুই আর বলতে পারলাম না স্যার আমাকে মাথাই হাত বুলিয়ে দোয়া করে দিল। আশার সময় স্যারকে ছালাম দিয়ে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম। স্যার বর্তমানে অসুস্থ আমার স্যারের জন্য দেশ বাসীর কাছে দোয়া প্রার্থী। আমি স্যারে দির্ঘায়ূ কামনা করি।

    লেখকঃ দিপু আহমেদ,সম্পাদক ও প্রকাশক নবীনগর ৭১ ডট কম

     

    বিঃদ্রঃ কিছু বানী সংগ্রহীত

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আদর্শ ডাক্তার হতে চায় মীম

    ০৮ অক্টোবর ২০১৮ | 1038 বার

    ঐতিহ্য দিয়া কি অইবো……!!

    ১৩ অক্টোবর ২০১৮ | 612 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে nabinagar71.com