• শিরোনাম

    আজ তার জন্মদিন

    নন্দিত হুমায়ূন

    তানভীর আহমেদ | সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 1390 বার

    নন্দিত হুমায়ূন

    নন্দিন হুমায়ুন

    ২০১২ সালে সাক্ষাত্কার দিয়েছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে। সেই সাক্ষাত্কারে নতুন যারা লিখছেন তাদের প্রসঙ্গে হুমায়ূন আহমেদ বলেন—
    লেখকরা সাধারণত অহংকারী হন একটা মানুষ এক জীবনে ১০ হাজারের বেশি বই পড়তে পারেন না। পৃথিবীতে ১০ হাজারের অনেক বেশি বই আছে। তাই আমি চেষ্টা করি সব সময় বেস্ট ক্লাসিক্যাল বই পড়তে। নতুনদের বই পড়ে সময়টা নষ্ট করতে চাই না। তবে যারা আমাকে বই উপহার হিসেবে দেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে সেগুলো পড়ি। কিন্তু লেখকরা সাধারণত অহংকারী হন। তারা নিজের বই দিতে চান না। ‘আপনার কেমন লাগল স্যার জানাবেন’— এটা বলেন না। অহংকারের কারণে। আমি যখন শুরু করেছি, আমিও তাই করেছি।

    জনপ্রিয় যত চরিত্র

    লেখক হুমায়ূন আহমেদ তার গল্প, উপন্যাসে সৃষ্টি করেছেন অসামান্য, বৈচিত্র্যময় সব চরিত্র। খামখেয়ালি, রসিক, বুদ্ধিদীপ্ত ও রহস্যময় নানা ধরনের চরিত্রায়ণে তিনি ছিলেন পাঠকের কাছে জনপ্রিয়। তার তৈরি চরিত্রগুলো মানুষের মনে এতটাই বাস্তব হয়ে ওঠে যে, অনেক কিশোর বয়সী পাঠক মানতেই চায় না— এ স্রেফ লেখকের কল্পনায় বোনা মানুষ। হুমায়ূন আহমেদের চরিত্রগুলো পাঠক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়েছে। তেমন কয়েকটি চরিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— হিমু, মিসির আলী, রূপা, শুভ্র ও বাকের ভাই।

    বাংলা সাহিত্যে কুবের আছে, দেবদাস আছে, আছে কবি নিতাই। বহু কবি-সাহিত্যিক এমনকি নাট্যকারের সৃষ্টি করা এসব চরিত্র আমাদের মনে স্থান দখল করে আছে। সে সব চরিত্রের ভিতর থেকে হিমু ব্যাপক জনপ্রিয়। সেই কাল্পনিক হিমুতেই মজে আছে এই বাংলার অসংখ্য তরুণ। হিমুর আদলে হলুদ পাঞ্জাবিতে নিজেকে সাজিয়ে ঘুরে-বেড়ায় শহর-বন্দরে। কাল্পনিক হিমু তরুণদের মনে এতটাই দাগ কেটেছে যে, হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর খবর শুনে একদল হিমুর দল যাত্রা করেছিল নুহাশ পল্লীর দিকে।

    হিমু চরিত্রটিকে অনেকেই বাংলা সাহিত্যে প্রথা ভাঙা চরিত্র বলে মানেন। তার বয়সের তরুণ যখন নিজ ভবিষ্যৎ আর করপোরেট স্বপ্নে বিভোর, হিমু তখন পকেটবিহীন হলুদ পাঞ্জাবি গায়ে, খালি পায়ে হাঁটা এক পথিক। ‘হিমু’ উপন্যাসে সে নিজেকে একজন নিতান্তই পথিক হিসেবে পরিচয় দেয়। হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট চরিত্রগুলোর মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা চরিত্রের একটি এটি। অনেক চরিত্র মিসির আলী। তিনি মোটা ফ্রেমের ভারী চশমা পরিহিত লোকটি কিছুতেই বিশ্বাস করেন না অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা। যত রহস্যময় ঘটনাই ঘটুক যুক্তি দিয়ে তার সমাধান খুঁজে নেন।

    এই যুক্তিবাদী মানুষটির নাম ‘মিসির আলী’। ‘হিমু’কে যদি অগোছালো আর যুক্তিতর্ক বিরোধী চরিত্রের প্রতীক বলা হয়; মিসির আলী হচ্ছে সম্পূর্ণ তার বিপরীত। মানুষের মন, আচরণ, স্বপ্ন এবং সংকট যুক্তির আলোকে ব্যাখ্যা করাই হলো মিসির আলীর একমাত্র কাজ। ‘শুভ্র’ চরিত্রটি তার নামের অর্থের মতোই শুদ্ধতম এক মানবের প্রতিচ্ছবি। শুভ্র নিজেকে পৃথিবীর যাবতীয় জটিলতা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে।

    নাটকের চরিত্র হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় বাকের ভাই। কোনো গল্প, উপন্যাস কিংবা নাটকের চরিত্র যে বাস্তব জীবনে এভাবে দৃশ্যমান হয় তা বোধ হয় আগে কেউ দেখেনি। হুমায়ূন আহমেদই সেই বিস্ময়কর ইতিহাস সৃষ্টি করেন ‘বাকের ভাই’ চরিত্রের মাধ্যমে। হুমায়ূন আহমেদের ‘কোথাও কেউ নেই’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয় নাটক। এ নাটকে ‘বাকের ভাই’র চরিত্রে অভিনয় করেন আসাদুজ্জামান নূর। হুমায়ূন আহমেদের আরেকটি সৃষ্টি ‘রূপা’। ‘হিমু’র মতো এক বাউণ্ডুলেকে ভালোবাসে এই অসম্ভব রূপবতী মেয়েটি।

    কিংবদন্তি হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম কাজল। বাবা ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমান ও মা আয়েশা ফয়েজ। বাবার কর্মসূত্রে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন বিধায় শৈশবে তিনি দেশের নানা স্কুলে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। শৈশবে তিনি যত জায়গায় গেছেন তার মাঝে সবচেয়ে প্রিয় ছিল দিনাজপুরের জগদ্দল। কারণ তারা যেখানে থাকতেন এর আশপাশে কোনো স্কুল ছিল না। স্কুলের কথা মনে হলেই যার মুখ তেতো হয়ে যেত সেই তারই এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট হওয়ার পর দেখা গেল তিনি সম্মিলিত মেধা তালিকায় দ্বিতীয়। ১৯৬৫ সালে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন। ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৬৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষায়ও তিনি মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছিলেন। ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে। ১৯৭২ সালে রসায়ন বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতকোত্তর পাস করে তিনি একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে প্রফেসর যোসেফ এডওয়ার্ড গ্লাসের তত্ত্বাবধানে পলিমার কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশের লেখালেখির ভুবনে হুমায়ূন আহমেদের আত্মপ্রকাশ ১৯৭২ সালে ‘নন্দিত নরক’ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে। তরুণ হুুমায়ূন আহমেদের মাঝে অমিত সম্ভাবনা তখনই টের পেয়েছিলেন প্রখ্যাত লেখক সমালোচক আহমদ শরীফ। এক গদ্যের মাধ্যমে তিনি হুমায়ূন আহমেদকে অভিনন্দিত করেছিলেন। হুমায়ূন আহমেদ তার জাদুকরী লেখনীতে পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখার বিরল প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। উপন্যাসের ক্যানভাসে মধ্যবিত্ত জীবন রচনার পাশাপাশি অসাধারণ সব সায়েন্স ফিকশন, ছোটগল্প, কবিতা, গান, নাটক লিখেছেন তিনি। প্রায় তিন শতাধিক বই প্রকাশ পেয়েছে এই কালজয়ী লেখকের। তৈরি করেছেন হিমু ও মিসির আলীর মতো জনপ্রিয় সব চরিত্র। তার লেখা প্রায় তিন শতাধিক বইসমূহের মধ্যে হিমু সংক্রান্ত বই রয়েছে ২৯টি, মিসির আলী সংক্রান্ত বই রয়েছে ২২টি এবং আত্মজীবনীমূলক বই রয়েছে ১৯টি। তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইসমূহের মধ্যে রয়েছে মধ্যাহ্ন, জোছনা ও জননীর গল্প, এপিটাফ, কে কথা কয়, মেঘ বলেছে যাব যাব, অপেক্ষা ইত্যাদি।

    তার কর্মজীবন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে অধ্যাপনার মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে তিনি অধ্যাপনা ছেড়ে লেখালেখি, নাটক নির্মাণ এবং চলচ্চিত্র নির্মাণে সম্পূর্ণভাবে আত্মনিয়োগ করেন। তার তৈরি চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্রাবণ মেঘের দিন, আগুনের পরশমণি, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, আমার আছে জল ইত্যাদি। হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রীর নাম গুলতেকিন আহমেদ। প্রথম স্ত্রীর ঘরে তাদের তিন মেয়ে এবং এক ছেলে জন্মগ্রহণ করেন। তিন মেয়ে হলেন বিপাশা আহমেদ, নোভা আহমেদ, শীলা আহমেদ এবং ছেলের নাম নুহাশ আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের দ্বিতীয় স্ত্রী হলেন অভিনেত্রী ও পরিচালক মেহের আফরোজ শাওন। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে তাদের দুই ছেলে। প্রথম ছেলের নাম নিষাদ হুমায়ূূন ও দ্বিতীয় ছেলের নাম নিনিত হুমায়ূন।

    সূত্র:বাংলাদেশ প্রতিদিন

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ২৩ অক্টোবর ২০১৭ | 2107 বার

    সফল এক বালক-রুপম

    ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | 2090 বার

    অাজ পহেলা ফাল্গুন- বসন্ত উৎসব_

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | 1418 বার

    মেহজাবিনের পরিচয়

    ০২ এপ্রিল ২০১৮ | 1385 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে nabinagar71.com