• শিরোনাম

    নবীনগরে’র কৃষ্ণনগরে রাতভর বঙ্গবন্ধু শুনে ছিলেন ভাওয়াইয়া গান

    মো.শফিকুল ইসলাম: | মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০ | পড়া হয়েছে 287 বার

    নবীনগরে’র কৃষ্ণনগরে রাতভর বঙ্গবন্ধু শুনে ছিলেন ভাওয়াইয়া গান

    ফাইল ছবি

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৯ সালে এসে ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে। এসময় তিনি এক জনসভায় বক্তব্য ও রাতভর শুনেছিলেন ভাওয়াইয়া গান। তার আগমন নিয়ে সেই সময়ে দিনগুলোর স্মৃতি নিয়ে লিখিছেন বঙ্গবন্ধু তার অসমাপ্ত আত্নজীবনীতে। সেই স্মৃতি বিজরিত স্থানটি এই প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে রাখার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান এর উদ্যোগে স্থানটি সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশপাশি নিমার্ণ করা হয়েছে স্মৃতিফলকও।

    ১৯৪৯ সালে কোন একদিন নৌকায় চড়ে জনসভা করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগরে আসেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এসময় তিনি বক্তব্য রাখেন। স্থানীয়দের দাবিগুলো তিনি তার নিজের দাবি হিসাবে উপস্থাপন করে ছিলেন। রাতে ভাওয়াইয়া গান শুনেন। গান পরিবেশন করেন আব্বাস উদ্দিন। তাকে দেখার জন্য তৎকালীন সময়ে গ্রাম বাংলার হাজার লোকের সমাগম ঘটে ছিল। তখন বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী ছিলেন আব্বাস উদ্দিন।

    বঙ্গবন্ধ অসমাপ্ত আত্নজীবনী ১১০ ও ১১১ নাম্বার পাতায় সেই দিনের স্মৃতি কথা গুলো তিনি তুলে ধরেন। জনসভায় বক্তব্যের কথা, অতিথিদের নামও তিনি লিখেন তিনি। রাতে গানের আসরে আব্বাস উদ্দিন, সোহরাব হোসেন ও বেদারউদ্দিনে গানের কথাও বলেন। পরের দিন আবার নৌকায় চড়ে আশুগঞ্জ রেল স্টেশন হয়ে ঢাকায় চলে গেলেন বঙ্গবন্ধু।

    এসময় বঙ্গবন্ধু তার অসমাপ্ত আত্নজীবনীতে লেখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা নবীনগর থানার কৃষ্ণনগরে রফিকুল হোসেন এই সভার আয়োজন করে। কৃষ্ণনগর হাই স্কুলের দ্বারোদঘাটন করার জন্য। আর্থিক সাহায্য পাওয়ার জন্য জনাব এন.এম. খান সিএসপি তখনকার ফুড ডিপার্মেন্টে ডাইরেক্টর জেনারেল ছিলেন। তাকেই নিমন্ত্রণ করা হয়ে ছিল। তিনি রাজিও হয়ে ছিলেন। সেখানে বিখ্যাত গায়ক আব্বাস উদ্দিন, সোহরাব হোসেন, বেদারউদ্দিন আহম্মদ গান গাইবেন। আমাকেও নিমন্ত্রণ করা করা হয়ে ছিল। রাতে আব্বাস উদ্দিন সাহেবসহ আমরা রফিক সাহেবের বাড়িতে রইলাম। রফিক সাহেবের ভাইরাও ভাল গান গাইত। হাসনাত, বরকতও ভাল গানই গাইত। এরা আমার ছোট ভাইয়ের মত ছিল। আমার সাথে জেলও খেটেছে।

    বঙ্গবন্ধ অসমাপ্ত আত্নজীবনী ১১১ নাম্বার পাতায় আরও লেখেন আমি আব্বাস উদ্দিন সাহেবের একজন ভক্ত ছিলাম। তিনি আমাকে বলে ছিলেন, “ মুজিব, বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে বিরাট ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলা রাষ্ট্রভাষা না হলে বাংলার কৃষ্টি, সভ্যতা সব শেষ হয়ে যাবে। আজ যে গানকে তুমি ভালবাস, এর মাধুর্য ও মযার্দাও নষ্ট হয়ে যাবে। যা কিছু হোক বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করতে হবে।” আমি কথা দিয়ে ছিলাম, এবং কথা রাখতে চেষ্টা করেছিলাম।

    এদিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কৃষ্ণনগরে আগমন ও স্মৃতি বিজরিত স্থান নিয়ে গর্বিত স্থানীয়রা। তাদের দাবি তিনি এমন নেতা ছিলেন ১৯৪৯ সালে এই পল্লী গ্রামে তার আগমন হয়ে ছিল। প্রান্তিক জনগোষ্ঠির বক্তব্য শুনেও ছিলেন। এই সময় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি বিজরিত কৃষ্ণনগর আবদুল জব্বার স্কুল এন্ড কলেজটি জাতীয়করণের দাবি জানানো হয়েছে। কৃষ্ণনগর আবদুল জব্বার স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষ ফেরদৌসুর রহমান জানান এই প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন বাংলার স্থপতির আগমন, যা আমাদের জন্য গর্বের ও অহংকারের।

    এই ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান জানান বঙ্গবন্ধু অসমাপ্ত আত্নজীবনীতে তিনি কৃষ্ণনগরে আসার কথা লেখা আছে। আমরা বঙ্গবন্ধু পদদলিত স্মৃতি বিজরিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কৃষ্ণনগরে স্মৃতিময় স্থানটি সংরক্ষণ ও চিহিৃত করতে একটি স্মৃতি ফলক নিমার্ণ করেছি। যাতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম জানবে, এই স্থানে কোন একদিন বঙ্গবন্ধুর আগমন হয়েছিল।

     

    লেখক: উপদেষ্টা,নবীনগর ৭১ ডটকম,জেলা প্রতিনিধি-দৈনিক যুগান্তর/যমুনা টেলিভিশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আদর্শ ডাক্তার হতে চায় মীম

    ০৮ অক্টোবর ২০১৮ | 1302 বার

    ঐতিহ্য দিয়া কি অইবো……!!

    ১৩ অক্টোবর ২০১৮ | 864 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে nabinagar71.com