• শিরোনাম

    নবীনগরে লোহার ড্রামে কোটি টাকা আয়

    নিউজ ডেস্ক | রবিবার, ২৭ জুন ২০২১ | পড়া হয়েছে 376 বার

    নবীনগরে লোহার ড্রামে কোটি টাকা আয়

    একসময় নুন আনতে পান্তা ফুরাতো নবীপুর ও দড়িলাপাং গ্রামের মানুষের। অথচ তারাই এখন মাসে আয় করছে কোটি টাকা। ঢাকার সোয়ারীঘাটের পুরোনো লোহার ড্রাম বদলে দিচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের দুই গ্রামের অর্থনীতি। এই ড্রাম ব্যবসার ফলে কর্মসংস্থান হয়েছে দুই গ্রামের তিন শতাধিক মানুষের।

    প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ব্যবসাটি আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে নবীপুর গ্রামে ড্রাম ব্যবসার সূচনা হয়। ওই গ্রামের বাসিন্দা সুরুজ মিয়া সর্বপ্রথম ড্রাম এনে ব্যবসা শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে বিস্তৃত হতে থাকে এই ব্যবসা। নবীপুর ও দড়িলাপাং গ্রামের ব্যবসায়ীরা সোয়ারীঘাট থেকে লট হিসেবে তেল ও বিটুমিনের পুরোনো ড্রাম কিনে আনেন। একেকটি ড্রামের দাম পড়ে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা। এরপর ড্রামগুলোকে বিক্রির উপযোগী করতে খরচ হয় আরও ১০০ টাকা।যেসব ড্রামের মেরামত প্রয়োজন হয়, সেগুলো মেরামত করে ঢাকনা সংযোজন করেন শ্রমিকরা।

    এ জন্য ড্রাম প্রতি শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া হয় ৬০ টাকা করে। পরবর্তীতে ড্রামগুলো ধুয়ে-মুছে রং করা হয়। ড্রামগুলো মূলত ধান, চাল ও গমসহ অন্যান্য পণ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়।ড্রামগুলো বিক্রির জন্য নদীপথে নৌকায় করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই গ্রামে বড় ব্যবসায়ী আছেন ২৪ জন। আর ছোট ব্যবসায়ী আছেন আরও ২০-২৫ জন। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের বড় নৌকা আছে ২৪টি এবং ছোট নৌকা আছে ৩-৪টি। বড় নৌকাগুলোতে ৪০০ পিস ড্রাম এবং ছোট নৌকাগুলোতে ১০০ পিস ড্রাম ধারণ করে।

    ড্রাম বিক্রি করার জন্য বড় নৌকাতে শ্রমিক থাকে ৮-১০ জন। ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয় এসব ড্রাম। প্রতিটি ড্রাম বিক্রি হয় ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। প্রতি মাসে নবীপুর ও দড়িলাপাং থেকে প্রায় ২০ হাজার ড্রাম বিক্রি হয়। যার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।নবীপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহাবুদ্দীন জানান, ড্রাম ব্যবসার কারণে গ্রামেই তাদের কর্মসংস্থান হয়েছে। দুই গ্রামে অনেক বেকার যুবক এখন ড্রাম মেরামত এবং ফেরি করে ড্রাম বিক্রির কাজ করছেন।

    ড্রাম মেরামতের কাজ করে একেকজন শ্রমিক দৈনিক ৭০০-৮০০ টাকা আয় করতে পারেন।আরেক শ্রমিক শান্তি মিয়া জানান, তিনি ১৫-১৬ বছর ধরে ড্রাম মেরামতের কাজ করছেন। প্রতিদিন ১০-১২টি ড্রাম মেরামত করে ঢাকনা সংযোজন করেন। এ কাজ করে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করেন তিনি।দড়িলাপাং গ্রামের ড্রাম ব্যবসায়ী মো. রুবেল বলেন, ‘ড্রাম ব্যবসা করে আমাদের দুই গ্রামের অনেকের ভাগ্য বদল হয়েছে। নতুন করে অনেকে ব্যবসায় আসতে চাইছেন।

    কিন্তু পুঁজির অভাবে ব্যবসা সম্প্রসারিত হচ্ছে না। যদি আমাদের সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ দেওয়া হয়, তাহলে এই ড্রাম ব্যবসা আরও বেশি সম্প্রসারিত হবে’।আরেক ব্যবসায়ী খলিল মিয়া বলেন, ‘ড্রাম ব্যবসার কারণে শ্রমিকরা গ্রামের বাইরে না গিয়েও ভালো টাকা আয় করছে। এতে করে গ্রামে বেকারত্ব কমছে। এখন মালিক-শ্রমিক দুই পক্ষই ভালোভাবে চলতে পারছে’।

    নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একরামুল ছিদ্দিক বলেন,‘ব্যবসায়ীরা যদি আমাদের কাছে সহযোগিতার জন্য আবেদন করেন, তাহলে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কিছু করা যায় কি না- সেটি আমরা দেখব’।

     

     

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    নবীনগরে প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যা

    ১৫ অক্টোবর ২০২০ | 799 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে