• শিরোনাম

    বৈষম্যহীনতার অনন্য নজির!

    প্রতিষ্ঠান প্রধান থেকে দপ্তরী সকলেরই বাড়ি ভাড়া ১০০০ টাকা

    মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। | বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | পড়া হয়েছে 146 বার

    প্রতিষ্ঠান প্রধান থেকে দপ্তরী সকলেরই বাড়ি ভাড়া ১০০০ টাকা

    ফাইল ছবি

    রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার সর্বত্রই কমবেশি বৈষম্য বিরাজমান। বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়াও দুস্কর। কিন্তু একটি জাযাগায় এ অনন্য নজিরটি খুঁজে পাওয়া যাবে। পাহাড়সম বৈষম্যের শিকার এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রে এ বৈষম্যহীনতা বজায় রাখা হয়েছে।

    এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষক, অধ্যাপক, সহকারি ও সহযোগী অধ্যাপক, সহকারি শিক্ষক, লাইব্রেরিয়ান, অফিস সহকারি, আয়া, দপ্তরী, নাইটগার্ড সকলেরই বাড়ি ভাড়া ১০০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা। কাররই শিক্ষা ভাতা, বিনোদন ভাতা নেই। বদলিও নেই, চাকরি যেখানে শুরু সেখানেই শেষ।

    এ যেন বৈষম্যহীনতার এক চমৎকার দৃষ্টান্ত। অথচ এমপিওভূক্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মাঝে প্রাপ্য সুবিধাদির ক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্য নিরসনে দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের এ দাবি পূরণে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা সত্যিই বিষ্ময়কর।

    সন্তান জন্ম দেন পিতা-মাতা কিন্তু তাকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেন শিক্ষক। শিক্ষকরাই মানব শিশুকে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করে দেশ ও জাতি গঠনে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন। তাই পিতা-মাতার পরই শিক্ষকের স্থান, এককথায় দোসর জনমদাতা।

    সন্তানের ভরণ পোষণ এবং দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে পিতা-মাতা সাধ্যাতীত প্রচেষ্টা জালালেও তাকে আদর্শ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভে গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শিক্ষক। শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশে এবং নৈতিক ও মানবিক গুণাবলী অর্জনে শিক্ষকের নিরলস প্রচেষ্টা সর্বজনগ্রাহ্য। কিন্তু শিক্ষকদের মর্যাদা আজ তলানীতে। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের প্রাপ্য সুবিধাদিতে বৈষম্য আকাশ পাতাল।

    গোটা জাতি জানে এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষকরা সরকার থেকে শতভাগ বেতন পান। কিন্তু বেতনের বদলে স্বীয় বেতন স্কেলের চেয়ে কম অনুদান পান তা কজনই বা জানেন? সরকারি চাকরিজীবীরা ২০১৫ সাল থেকে ৫% ইনক্রিমেন্ট পেলেও বেসরকারি শিক্ষকরা পেয়েছেন ২০১৮ সালে।

    তাও আবার কোনরূপ বকেয়া ছাড়া। একই অবস্থা বৈশাখী ভাতার ক্ষেত্রে। এখন আবার বোঝার উপর শাকের আঁটি চাপিয়ে দেয়া হয়েছে অতিরিক্ত ৪% কর্তনের মাধ্যমে। পৃথিবীর কোথাও ২৫% উৎসব ভাতার রেওয়াজ না থাকলেও এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষকরা পাচ্ছেন।

    ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতার কথা বলতেও লজ্জা লাগে। পৃথিবীর কোথায় এমন নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না। বাড়িভাড়ার নামে এ লজ্জাকর ও হাস্যকর ভাতা অচিরেই যৌক্তিক হারে বৃদ্ধি করে এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের মাথা গোঁজার ঠাইটুকু নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য ও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

    উচ্চতর স্কেল বঞ্চিত লাখো শিক্ষক। বিনোদন ভাতা, সন্তানের শিক্ষা ভাতার তো কোন বালাই নেই। নিজের সঞ্চিত অবসর কল্যাণের টাকা পেতেও ভোগান্তির শেষ নেই। বদলি, সেতো সোনার হরিণ!

    মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়, আমরা মানুষ গড়ার কারিগর, শিক্ষকতা সেবাব্রত, মহান পেশা এসবই ঠিক আছে। কিন্তু সবকিছুর উর্ধ্বে আমরাও মানুষ। আমাদেরকেও সমাজে বসবাস করতে হয়। স্বাদ আহলাদ আমাদের না থাকলেও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের তো আছে। একটা সময় ছিল রাষ্ট্রের সক্ষমতা ছিল না। তখন আমাদের কিঞ্চিৎ প্রাপ্তিতেও আপত্তি ছিল না।

    কিন্তু এখন রাষ্ট্রের সক্ষমতা বেড়েছে, তলাবিহীন ঝুঁড়ির তকমা কেঁটেছে। এখন ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত হলে হতাশ না হয়ে উপায় কী? তাই আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নেয়া উচিত বলে এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষকরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে।

    আশার খবর শিক্ষামন্ত্রী দীপুমনির উপলব্ধি হয়েছে যে, শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ছাড়া মানসম্পন্ন শিক্ষা সম্ভব নয়। শিক্ষকদের আর্থিক দীনতায় রেখে সুশিক্ষা আশা করা সত্যিই কঠিন। তাই শিক্ষাক্ষেত্রে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে সর্বাগ্রে শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন জরুরি। জাতীয়করণ চূড়ান্ত সমাধান হলেও আপাত দৃষ্টিতে যৌক্তিক বাড়িভাড়া (৪৫%) প্রদান করলে শিক্ষকরা নিশ্চিন্তে ও সম্মানের সহিত বসবাসের সুযোগ পাবেন।

    লেখক,

    মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার
    প্রধান শিক্ষক
    পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়
    মুরাদনগর, কুমিল্লা।
    ০১৮১৮৬৬৪০৩৪
    E-mail: alauddinhm71@gmail.com

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ভালবাসার একজন ইউএনও

    ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ | 1000 বার

    আমার বন্ধুর জন্মদিন!!

    ১৪ মে ২০১৮ | 749 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে nabinagar71.com