• শিরোনাম

    মাননীয় এমপি,সাবেক এমপি মহোদয়গন ও উপজেলা চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি!

    এম কে জসীম উদ্দীন | বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০ | পড়া হয়েছে 269 বার

    মাননীয় এমপি,সাবেক এমপি মহোদয়গন ও উপজেলা চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি!

    প্রিয় নেতৃবৃন্দ–

    দেশের মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সচেতনতা চলছে না ছুটির আমেজ আনন্দ উৎসব চলছে তা প্রত্যেকটি গ্রাম মহল্লায় বাজার ও দোকান পাটগুলোয় গেলে বুঝা যায়।

    বিশেষ করে সকাল আর বিকালে প্রত্যেকটি বাজারের চিত্র দেখে বুঝার উপায় নেই জনগণের মধ্যে কি অবস্থা বিরাজ করছে।

    সরকার নির্দেশ দিয়েছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান,ওষুধ ও জরুরি সেবার প্রতিষ্টানগুলো শুধু খোলা থাকবে সেখানেও নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

    উপজেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন,সাংবাদিক কোথাও কোথাও জনপ্রতিনিধিদের সরব উপস্থিতিতে জনগণকে সচেতন করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

    তার সাথে সামাজিক দুরত্ব বজায় চলাফেরা করতে  বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করছেন।

    তারপরও কি আমরা সচেতন করতে পেরেছি ?

    এমন কোন বাজার নেই যেখানে সরকারী নির্দেশ অমান্য করে সব ধরণের দোকানপাট খোলা হচ্ছে না শুধুমাত্র নবীনগর সদর বাজার ছাড়া।

    কেন এমনটা হচ্ছে আপনারা কি বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছেন ?

    কোন রকম খোঁজখবর কি নিয়েছেন আপনাদের নির্বাচনী এলাকায় সামাজিক দুরত্ব বা সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক জনগণ চলছে কিনা ??

    যদি খোঁজ খবর নিয়ে থাকেন তবে আমরা এখনো জানি না কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন আপনারা ????

    যদিও নবীনগরের ডাক্তার,নার্স স্বাস্থকর্মী,প্রশাসন,পুলিশ,সাংবাদিকদের বড় অংশকে আপনারা পিপিই সহ অন্যান্য কিছু সেফটি সামগ্রী বিতরণ করলেন।

    যা প্রশংসনীয় উদ্যোগও বটে!

    সর্বশেষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে জানতে পারলাম বর্তমান এমপি ও সাবেক এমপি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দুজনে ২২ লক্ষ টাকা নবীনগরের শ্রমজীবী কর্মজীবী ছিন্নমূল মানুষের খাদ্য সামগ্রী বিতরনের জন্য দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

    তাও আপনাদের মানবিক সিদ্ধান্ত!

    তাকে আমরা শ্রদ্ধা করছি।

    সম্মানিত মহোদয়গন—

    আপনাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি!

    আপনাদের কাছে আমরা মানবিক সিদ্ধান্ত (অর্থ প্রদান) ও মেডিকেল ইকুটম্যান্ট ছাড়াও কার্যকর একটা উপায় আমরা আশা করছি।

    বিনয়ের সাথে অনুরোধ করছি

    আপনারা খোঁজ খবর নিয়ে দেখুন নবীনগরের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কতটুকু সমন্বয়হীনতা চলছে!

    প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টনে রাখার পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন পুলিশ সাংবাদিকদের কি পরিমাণ বিরামহীন কাজ করতে হচ্ছে!

    ইউনিয়ন পরিষদে যেসকল সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা জাতির এমন দুর অবস্থায় কতটুকু দায়িত্ব পালন করছেন!

    আমরা গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তথ্য আছে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটির অনেক ব্যক্তি আছে যারা জানেনও না তারা কমিটিতে আছেন!

    আমি যতটুকু জানি এই মুহূর্তে নবীনগর থানায় প্রায় ৩০ জন পুলিশ অফিসার থাকার পরও রোহিঙ্গা ডিউটি আর সরকারি বিভিন্ন কাজে কয়েকজন ব্যস্ত থাকার পরও ২১ ইউনিয়ন আর একটি পৌরসভায় বাজার গুলোয় ব্যাপক ভাবে জনগণের উপস্থিতি,অযথা ঘুড়াঘুড়ি আর সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে পারছিনা কেন ??

    নবীনগরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার,ওসি,তদন্ত কর্মকর্তারা আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হচ্ছেন না কেন ?

    তাদের প্রয়োজনীয় সরকারী সহায়তা,উপকরণ ও সমন্বয়ের কোন ঘাটতি রয়েছে কিনা ?

    আমার অনুরোধ রইলো নবীনগরের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনারা আরো তথ্য আদান প্রদান,পরিস্থিতি অনুধাবন করে বাস্তবিক কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

    আমরা তো সকাল বিকাল ২২ টি পৌরসভা সহ ইউনিয়নের বাজারগুলোতে একজন পুলিশ অফিসার,একজন সরকারি কর্মকর্তা,দুই একজন পুলিশ কনস্টেবল ও ৯জন চৌকিদারদের সমন্বয় করে একটি করে আপদকালীন ভাড়াগাড়ি ও কিছু লাঠি আর খাবারের জন্য এই কয়েকদিন কিছু অর্থও  ধরিয়ে দিতে পারতাম!

    পুলিশ প্রধান যে নির্দেশনা দিয়েছেন মাঠের পুলিশকে মানবিক আচরণ করতে-

    সেই নীতি বাস্তবায়ন করলে আমাদের জনগন পুলিশকে বুঝিয়ে উল্টো থানায় পাঠিয়ে দেবে।

    তারপরও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার পাশাপাশি তাদেরকে তো আপনারা কিছু কৌশল করার নির্দেশ দিতে পারেন।

    থানা পুলিশের অন্যান কাজগুলো কমিয়ে ইউনিয়ন ভিত্তিক টিমওয়ার্ক করা যাতো।

    চৌকিদার ও দফাদাররা জনগণের জমায়েত ঠেকাতে কিছুই করার থাকে না কারণ ওরা স্থানীয়।

    তাই দুইচারজন পুলিশের উপস্থিতি একটুখানি সাহস নিয়ে লাঠিচার্জ না করুক দৌড়ানি তো দেওয়া যেতো।

    আমরা দেখেছি নবীনগরে বিভিন্ন এলাকায় ঝগড়া হলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে অস্থায়ী  ক্যাম্প স্থাপন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে!

    অথচ বৈশ্বিক এতোবড় সমসায় আমরা পুলিশকে নবীনগরে সামাজিক দুরত্ব বজায় চলাফেরা করতে আর সচেতনতা সৃষ্টি করতে কার্যকর একটা ব্যবস্থা নিতে পারলাম না।

    সরকারি বেসরকারি স্কুল কলেজ গুলো বন্ধ হয়ে গেছে আমরা কেন এসকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে কাজে লাগাতে পারলাম না ?

    উনারা তো দেশের এই আপদকালীন সময়ে সরকারি বেতন ভাতা ঠিকই নেবেন,সেখানে কি উনারা আপত্তি করতেন ??

    আমার মনে হয় সম্মানিত শিক্ষকগণ গর্বের সঙ্গে মানুষের বাড়িতে গিয়ে বুঝাতে রাজি হতেন।

    অবিশ্বাস্য হলেও সত্য আমাদের বোধশক্তি এতো প্রখর নয় যে আমরা করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আন্তরিক হবো।

    আমরা এসব সামাজিক দুরত্ব টুরত্ব বুঝতে চেষ্টা করেছি না।

    আমরা আতংকিত হই ঠিক তবে বাস্তবতায় কারণে না গুজবে!

    আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে কারো অনুনয় বিনয় শোনে শ্রদ্ধা জানাতে।

     

    তবে আমরা কথাশুনি-

    লাঠি দেখলে!

    কখনো লাঠির আঘাতে আবার কখনো লাঠির ভয়ে।

     

    বেয়াদবি হলে ক্ষমা করবেন–

    এখনো সময় আছে আপনারা একত্রিত হয়ে নবীনগরে প্রত্যেকটি বাজারের চিত্র দেখলে আপনারা আতংকিত হয়ে যাবেন!

    কি পরিমাণ মানুষ বাজারে আড্ডা গল্প করতে জড়ো হয়!

    উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের এতো দৌড়ঝাপেও সেরকম ফল পাওয়া গেলো না।

    তাদের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই!

     

    আজকে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি যখন অপ্রতুল তখন সামাজিক দুরত্ব বজায় চলাফেরা করা আর সচেতনতা বৃদ্ধি করা ছাড়া আমাদের।

    লেখকঃ

    এম কে জসীম উদ্দিন

    সভাপতি, নবীনগর উপজেলা প্রেস ক্লাব

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আদর্শ ডাক্তার হতে চায় মীম

    ০৮ অক্টোবর ২০১৮ | 1304 বার

    ঐতিহ্য দিয়া কি অইবো……!!

    ১৩ অক্টোবর ২০১৮ | 871 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে nabinagar71.com