• শিরোনাম

    রক্ষকই যখন ভক্ষক

    ফারুক আহমেদ সরকার | রবিবার, ২০ মার্চ ২০২২ | পড়া হয়েছে 220 বার

    রক্ষকই যখন ভক্ষক

    ফাইল ছবি

    বিএনপি আমলের এমপি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক বিএনপির দলছুট নেতা, বর্তমানে এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন আমলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী ও সাধারণ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের পাশাপাশি ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের পর্যন্ত ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তুলে এনে তাদের উপর ওনার নিজের সামনে বেধরক মারধর করার পাশাপাশি, ক্যাডার বাহিনী দ্বারা এমন কোন বিষয় নাই যেটি তিনি করেন নাই।

     

    একাধারে ক্ষমতার অপব্যবহার অন্যায়-অত্যাচার, জোর-জুলুম, চাঁদাবাজি, মারধর, হামলা-মামলা, লুট-পাট, হুমকি-ধামকি দিয়ে, ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে, মারধর করে গরীব-দুঃখী সাধারণ সহজ সরল মানুষের জায়গা-জমি জোর দখল করে নিয়েছিল, পাশাপাশি এমন কোন হীন কাজ বাদ দেন নাই, যে যেগুলোর ওনি সেল্টার ও প্রধাণ পৃষ্ঠপোষকতা করেন নাই।

     

    এছাড়াও ২০০৭ সালের সরকারি বরাদ্ধের টাকা আত্মসাৎ করেন। যা পরবর্তীতে দুদকের কাছে ধরাপরে, এই বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর রমনা থানায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ২ কোটি ৩০ লাখ ৯৭ হাজার টাকার সম্পদ ও এক কোটি ৩৬ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৮ টাকার তথ্য গোপন করার অভিযোগে দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ একটি মামলা দায়ের করেন।

     

    জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মামলার বৈধতা নিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ১ বছরের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

     

    দূর্নীতির এই বড়পুত্র রেদোয়ান আহমেদের প্রতিষ্ঠিত চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের চলমান যত নিয়ম বহির্ভূত কর্মকান্ড আছে তার সবই পরিচালনা করছেন দুর্নীতীবাজ রেদোয়ানের আশীর্বাদপুষ্ট উক্ত কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম। বলা বাহুল্য যে একটি কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের সর্বোচ্চ অভিবাবক একজন অধ্যক্ষ-যিনি জাতি গড়ার কারিগরও বটে।

     

    কিন্তু আফসোস এ কলেজে পড়তে আসা প্রত্যেকটি ছাত্র-ছাত্রীর কলেজ প্রশাসন কর্তৃক মুখোমুখি হতে হয় এক অন্যরকম প্রহসনের। একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যে নূন্যতম অধিকার টুকু থাকে তার মধ্যে বিন্দু মাত্রও এ কলেজের শিক্ষার্থীদের থাকতে নেই এবং এর প্রতিবাদ ও করা যাবেনা।

    যদি কেউ প্রতিবাদ করার কথা ভাবে তাহলে তাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি হতে হয় যেমনটা গত (১৫-০৩-২০২২) ইং তারিখ কলেজ শাখা ছাত্রলীগ কর্তৃক ১৭ মার্চ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি,বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে এক দোয়ার আয়োজনের জন্য অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম স্যারের কাছে অনুমতি চাইতে গেলে তাৎক্ষণিক তিনি প্রতিষ্ঠাতা রেদোয়ান আহমেদ সাহেবের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে এবং তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিতে শুরু করেন।

     

    এবং বলেন যদি এ কলেজে আওয়ামী পন্থী কোন রাজনিতীর চর্চা হয় তবে এর পরিনাম হবে খুবই ভয়াবহ তখন এক পর্যায়ে অধ্যক্ষের সাথে থাকা পিয়ন ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বহিরাগত এলডিপির রাজনীতির সাথে জড়িত চার থেকে পাচঁজন পরিকল্পিত ভাবে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের উপর হামলা করেন এবং অধ্যক্ষের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মোঃ আজাদ নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে মাথায় আঘাত করে মাথা ফাঁটিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে,সহপাঠী ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা তাকে সেখান থেকে দ্রুত উদ্ধার করে গুরুতর ভাবে আহত অবস্থায় চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান,পরবর্তীতে তাকে ডাঃ হাসপাতালে ভর্তি করান।

    এর পরদিন (১৬-০৩-২০২২) ইং তারিখে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠী মোঃ আজাদ হত্যাচেষ্টা ও অধ্যক্ষের অপসারনের দাবিতে মানববন্ধন করতে গেলে অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম, কলেজের পিয়ন ও মনিরুল ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতায় নিজস্ব বহিরাগত এলডিপির ক্যাডার বাহিনীর গুন্ডারা বাধা দিয়েছে যতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করতে না পারে,তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের বাধা না মেনে মানববন্ধন করার জন্য একত্রিত হয়ে মানববন্ধন করে।

    এই বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ০১ সাংগঠনিক সম্পাদক সামিরুল খন্দকার রবির কাছে যানতে চাইলে তিনি যানান যে, পরিকল্পনায় ব্যার্থ হয়ে উক্ত কলেজের ছাত্র আজাদকে হত্যাচেষ্টার যেই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে, সেই বিষয় টিকে ধামাচাপা দিতে ও ঘটনার মোড় অন্য দিকে বানচাল করতে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে ওনার উপর হামলার ঘটনাটি সাজিয়ে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে শুধু মাত্র আওয়ামী পরিবারে সন্তান হওয়ায় এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায়, উক্ত কলেজ শাখার ছাত্রলীগ সভাপতি কাজী জামিল আহমেদ এবং আমি সামিরুল খন্দকার রবি, চান্দিনা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ০১ সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার জেরে আমাকে ও আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মোঃ আক্তার হোসেন রানাকে কোন কারন দর্শানো ছাড়াই অধ্যক্ষের মিথ্যা অভিযোগের কোন প্রকার যাচাই না করে পুলিশ আমাদের তিন জনকে অহেতুক আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

     

    বিষয়টি সম্পর্কে চান্দিনা থানার উপ – পরিদর্শক (এস.আই) রাকিব হাসান জানান , অধ্যক্ষের উপর হামলার ঘটনায় তিনজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে । ঘটনার তদন্ত চলছে ।

     

    কোন অভিযোগ না পাওয়ায় সন্ধ্যায় স্থানীয় এমপি অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্তের হস্তক্ষেপে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। তারপরও ষড়যন্ত্র থেমে নেই-এখনও চলমান।অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম বিভিন্ন ভাবে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হয়রানি করতে মরিয়া।

     

    উল্লেখ্য গত কয়েক বছর আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ও ডিগ্রিতে ভর্তির নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে আবেদন করে মেরিট লিস্টে নাম আসলে তবে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে ভর্তি হওয়া যায়। কিন্তু শুধু মাত্র ছাত্রলীগের রাজনীতি করার কারনে ০২ জন ছাত্রকে উক্ত কলেজ ভর্তি করায় নাই, স্বয়ং অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম সরাসরি ভাবে ছাত্রদের যাতে ভর্তি করানো না হয় সেই নির্দেশনা দেন কল

    কলেজ প্রশাসনকে ।পরবর্তীতে ছাত্ররা বাধ্য হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করে এবং যাতে তাদেরকে ভর্তি করানো হয় সেই বিষয়ে যথাযথ প্রমান সহ উল্লেখ করে আবেদন পত্র প্রেরন করে ও উক্ত বিষয়টার যথাযথ তদন্তের দাবি জানায়। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ঐ দুইজন ছাত্রকে ভর্তি করায়। তাদের অপরাধ ছিল একটা তারা ছাতলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল।

    উল্লেখ্য ২০১৮ সালে অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম তার কলেজের অফিস কক্ষে রাতের আধারে কলেজের ঐ দুজন শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে পূর্বের ঘটনার রেশ ধরে তাদের হুমকি-ধমকি দেয়,পরে ঐ দুই ছাত্র প্রতিবাদ করলে তাদের সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওনি সমনে থেকে ওনার সহযোগীদের সাথে নিয়ে কুপিয়ে গুরুতর যখম করলে পুলিশ ঐ ছাত্রদেরকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরন করেন এবং ওনাকে এবং ওনার সহযোগিদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছিল।

    পাশাপাশি এইমাসের ঐতিহাসিক ০৭মার্চে কলেজ কতৃপক্ষ কর্তৃক কলেজের হল রুমে একটা অলোচাসভা করা হয় যেখানে কলেজ প্রতিষ্ঠাতা রেদোয়ান আহমদ সাহেব উপস্থিত ছিলেন কিন্তু দুঃখের বিষয় সে অনুষ্ঠানের ব্যানারে না ছিলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছবি,না ছিলো বাংলাদেশ সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি। শুধু এ অনুষ্ঠানই নয়-অতীতের সকল অনুষ্ঠানেও এটা লক্ষ্য করা গিয়েছে। এতেই স্পষ্ঠ হয় তারা কতোটা বেপরোয়া ও স্বাধীনতা বিরোধী প্রেতাত্মা।

    মমতাময়ী জননী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, চান্দিনার মাটি মানুষের নেতা অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত এমপি মহোদয়, জেলা প্রশাসক কুমিল্লা, পুলিশ সুপার কুমিল্লা, চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ মহোদয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই এখনই যদি এই স্বাধীনতা বিরোধীদের লাগাম টেনে ধরা হয় নচেৎ এই প্রজন্ম তাদের অনৈতিক চাপাকলে পিষ্ট হবে;যা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    কুমিল্লায় সাংবাদিককে হুমকি

    ১৭ অক্টোবর ২০২০ | 419 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে