• শিরোনাম

    শিক্ষায় অভিভাবকদের ভূমিকা_জি.এম.নাছির

    নিউজ ডেস্কঃ- | রবিবার, ১১ নভেম্বর ২০১৮ | পড়া হয়েছে 582 বার

    শিক্ষায় অভিভাবকদের ভূমিকা_জি.এম.নাছির

    শিক্ষায় অভিভাবকদের ভূমিকা...জি.এম.নাছির

    নিজেকে চিনতে সৃষ্টিকর্তাকে জানতে জ্ঞানার্জনের নামই শিক্ষা। জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে নিজকে বিকশিত করে মানব কল্যাণে যারা নিজকে সমর্পণ করেন ওরাই প্রকৃত শিক্ষার অধিকারী। প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষগুলো পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য নিরন্তর কাজ করে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এগিয়ে চলেন। এই শিক্ষা মানুষ আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে থাকে। প্রাতিষ্ঠান ভিত্তিক শিক্ষা মূলতঃ শিক্ষার স্বীকৃতি প্রদান করে। যেখানে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সৃষ্টির তালিম দিতে প্রকৃত শিক্ষাগুরু প্রানান্তর চেষ্টা করে যান।

    বৃহত্তর সমাজ আমাদের অনানুষ্ঠানিক পাঠশালা। এখানে আমরা সবাই ছাত্র। নৈতিক -অনৈতিক সকল শিক্ষা সমাজ নামক প্রাতিষ্ঠানে দিব্যি মিলে। বিবেক দিয়ে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ করি আলোকিত হতে। আবার অনেকে অন্ধকারের পথে চলছে।

    এটাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে সামাজিক শিক্ষার মূল পার্থক্য। তাই সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ সন্তানদের নৈতিক শিক্ষায় অন্তর্ভূক্ত করতে বরাবরই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। শিক্ষায় সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দের ভূমিকা বর্ণনাতীত।

    প্রতিটি অভিভাবক তাঁর সন্তানকে নিয়ে বড় বড় স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্ন দেখার অধিকারে আমিও আজ যুক্ত। আমাদের ইচ্ছা আমাদের সন্তানেরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে অকৃপণ কাজ করে এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

    এই লক্ষে সন্তানদের সাজাতে শিক্ষা গ্রহণের মহান প্রাতিষ্ঠানে শিশুদের বিচরন শুরু করার সুযোগ সৃষ্টি করেন মা -বাবা। শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে শিশুদের অতি যত্নে অভিভাবকবৃন্দ দেখাশোনা করেন। প্রাথমিক স্তরে প্রাইভেট স্কুল তথা কিন্ডারগার্টেনে আধুনিক শিক্ষার ছোঁয়া লাগাতে অর্থ ব্যয়ে কৃপাণতা করেননা।

    আমাদের পরম শ্রদ্ধাভাজন মায়েরা প্রতিদিন সকাল বেলায় সন্তানদের নিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন। সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের যত্নবান হওয়া চোখে লাগার মত। প্রাথমিক স্তর পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হওয়ার সাথে সাথে চিত্র ভিন্ন। অভিভাবকগণ সন্তানদের খবর নিতে বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রয়োজনবোধ করেননা।

    এর মধ্যে যারা খবর রাখেন তাদের সংখ্যা অতি নগণ্য। বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের সভা -সমাবেশ করেও সবাইকে আনা যায়না। আসলেও কার্যকরী ভূমিকা পালনে অনীহা প্রকাশ করেন।

    কিছু কিছু সময় বিদ্যালয়ে অভিভাকদের আনাগোনা বেশি থাকে। শিক্ষার্থীদের কাজগুলো অভিভাবকরা করতে আসেন। তখন শিক্ষার্থীদেরকে আড়ালে থাকতে দেখি। জীবনে দুটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে কথাগুলো বলছি। বিদ্যালয়ে ভর্তি, পরীক্ষার বেতন -ফী, ফরম পূরণ এর সময় অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত অনেক বেশি থাকে।

    বিদ্যালয়ের পাওনাদি কমানোর জন্য তাঁদের ভীরে স্কুল সরব হয়ে উঠে।গরীব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ এই মিছিলে সামনের সাড়িতে যায়গা পাননা। এটা বড়ই পরিতাপের বিষয়। ব্যক্তিগত পর্যাবেক্ষণে দেখলাম যে কেজি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে একজন ছাত্রের শিক্ষা ব্যয় মাধ্যমিকে দশম শ্রেণির শিক্ষা ব্যায়ের দ্বিগুণ।

    তারপরও মাধ্যমিকে শিক্ষা ব্যয়ে আমরা অভিভাবকগণ বড়ই কৃপণ। বিশেষ করে টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ সন্তানদের এসএসসি পরীক্ষার সুযোগ করে দিতে অসহনীয় যোগাযোগ ও বিচরন লক্ষনীয়। উপরোক্ত কারণ সমূহ ছাড়া বিদ্যালয় আঙ্গিনায় অভিভাবকদের খুজেও পাওয়া যায়না। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে আমাদের সন্তানদের জীবন সাজাতে আমরা বড়ই ব্যস্ত।

    এখানের শিক্ষা ব্যয় পূর্বের দুটি স্তরের তুলনায় বহগুণ বেশি। এখানে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অভিভাবক সন্তানদের শিক্ষা অর্জণে সুযোগ করে দিচ্ছে। যে সকল অভিভাবক মাধ্যমিক স্তরে নানাহ অজুহাতে সন্তানের শিক্ষা ব্যয় ফ্রী করেছেন তিনিই উচ্চমাধ্যমিকে সন্তানের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করছেন। এই বাস্তবতার নিড়ব সাক্ষী মাধ্যমিকের শিক্ষকবৃন্দ।

    মাধ্যমিক স্তরে অভিভাবকদের ভূমিকাটা প্রশ্নবিদ্ধ।।এখানে অধিক যত্নবান হলে আমাদের সন্তানেদের ভবিষত আলোর পথ আরও সুগম হত। শিক্ষার জন্য মাধ্যমিক স্তর অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

    এখানে প্রাথমিক ও উচ্চ স্তরের ন্যায় অধিক যত্নবান হলে আমাদের সন্তানেরা সূর্য সন্তান হওয়ার পথে সহজেই এগিয়ে যেত। মাধ্যমিকে সন্তানদের পড়া -লেখার খবরা খবর নিতে অভিভাবকবৃন্দের বিদ্যালয়ে আগমন প্রত্যাশা করছি।

    জি.এম. নাছির

    সহকারী প্রধান শিক্ষক শ্রীকাইল কে.কে উচ্চ বিদ্যালয়

     

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ভালবাসার একজন ইউএনও

    ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ | 1059 বার

    আমার বন্ধুর জন্মদিন!!

    ১৪ মে ২০১৮ | 815 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে nabinagar71.com