• শিরোনাম

    শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা পেলেন নারীনেত্রী_সনি আক্তার সুচি

    বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি | সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | পড়া হয়েছে 628 বার

    শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা পেলেন নারীনেত্রী_সনি আক্তার সুচি

    নারী উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা পেলেন নারীনেত্রী সনি আক্তার সুচি।

    আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে জয়িতাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেয়া হয়েছে।

    উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের উদ্যোগে সোমবার বিকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জয়িতাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধান অতিথি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম এ সম্মাননা পুরস্কার ও সার্টিফিকেট তুলে দেন দুই জয়িতার হাতে।

    বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন সরোয়ারের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম।

    এলাকাবাসী ও বিভিন্ন তথ্যমতে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ও আশপাশের পিছিয়ে পড়া নারীদের সামনে এগিয়ে আনার জন্য যে কয়জন নারী আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে রাজনৈতিক নেত্রী ও সমাজসেবায় অতি পরিচিত একটি নাম সনি আক্তার সুচি। স্কুল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে তিনি বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন।

    স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষরোপণ করে সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে সুচি সম্প্রতি প্রায় দুই হাজার বিভিন্ন ধরনে গাছ রোপণ করেছেন। সাদা মনের এই মানুষটি বিভিন্ন সময়ে প্রতিবন্ধী ও এতিম শিশুদের ঈদের পোশাক বিতরণ করেছেন। খুব সহজেই মানবসেবায় নিজেকে যুক্ত করে নিয়েছেন তিনি। এলাকার মানুষের আপদে বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

    বলা যায়, অল্প বয়সেই সুচি ব্যাপক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন।

    ১৯৮৬ সালের ১০ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাড্ডা গ্রামে সুচি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. অরুণ মিয়া এবং মা সেলিনা বেগম। তার স্বামীর বাড়ি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দরিকান্দি গ্রামে। স্বামী সাব্বির আহমেদ সুবীর বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক। শ্বশুর মরহুম জীবন মিয়া ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তৎকালীন ছয়ফুল্লাকান্দি পূর্ব ইউনিয়নের তিন বারের নির্বাচিত সফল চেয়ারম্যান। বর্তমানে তার ভাশুর শফিকুল ইসলাম স্বপন দ্বিতীয় বারের মতো দরিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। দিন দিন সুচি রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এলাকায় একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে। বর্তমানে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক, বাংলাদেশ জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, বাঞ্ছারামপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির সভাপতি সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করছেন।

    তাছাড়াও এক সময় তিনি দৈনিক জনতা ও দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতার কাজ করেছেন।

    সুচি নিয়মিত রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। এলাকায় বাল্য বিয়ে বন্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, চাঁদাবাজ, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ছাত্রছাত্রীদেরকে সচেতন করতে স্কুল ও কলেজে গিয়ে তাদেরকে শপথ বাক্য পাঠসহ সচেতনতা সৃষ্টি করে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন।

    নারী জাগরণ ও সমাজ থেকে অনিয়ম দুর্নীতি রোধে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার গ্রামে গ্রামে সচেতনতামূলক শ্লোগান-ধর্মী পোস্টার, ফেস্টুন ও দেয়ালে চিকা মারার মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এলাকার গরিব অসহায় মানুষদেরকে ফ্রি রিকশা ও সেলাই মেশিন প্রদান, ফ্রি চিকিৎসা, গরিব মেধাবীদের বই কিনে দেয়াসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করে সুচি হাজারও মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন।

    সনি আক্তার সুচি ইতিমধ্যে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্তৃক ক্যাপ্টেন তাজ জনসেবা পদক-২০১৮, দরিকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কর্তৃক সম্মাননা স্মারক, ফরিদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক সংবর্ধনা ও সম্মাননা পুরস্কার, খালা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃক সম্মাননা স্মারক প্রদানসহ বেশকিছু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন।

    তিনি সার্বক্ষণিক সমাজের অবহেলিত নারীদের উন্নয়ন এবং গরিব দুঃখী মানুষের সেবা নিয়ে ভাবেন। ইতিমধ্যে কয়েকশত পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে ব্যাপক সুনাম করেছেন। এ পর্যন্ত বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ১৫টি বাল্য বিয়ে অভিভাবকদের বুঝিয়ে বন্ধ করার পাশাপাশি তাদেরকে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে সহযোগিতা করেছেনে।

    একান্ত সাক্ষাতকারে সনি আক্তার সুচি বলেন, আমি চেষ্টা করি একেবারে অসহায় মানুষদেরকে সহযোগিতা করার। সমাজের অবহেলিত ও প্রভাবশালীদের হাতে শোষণ ও নির্যাতনের শিকার মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরকে মুক্ত করতে। আমাদের সমাজের নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েদেরকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক সহ বিভিন্ন অপরাধ থেকে মুক্ত হয়ে দেশ গড়ার কাজে জড়িত হওয়ার আহ্বান জানাই।

    এতে করে আগামীর বাংলাদেশ অনেক সুন্দর ও স্বপ্নের হবে। চেষ্টা করি প্রতিদিনই কোনো না কোনো একটি ভালো কাজ করতে। কেন না, আমি বিশ্বাস করি মানুষ ভালো কাজের মাধ্যমে মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ৩য় মেঘনা সেতু নির্মানে মতবিনিময় সভা

    ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | 3578 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে nabinagar71.com